দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়

0
79

DUDOK_seminarদেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা দলীয় প্রভাবে পরিচালিত হওয়ায় দুর্নীতি সকল স্তরে বিস্তার লাভ করেছে। দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। দুর্নীত কঠোর হাতে প্রতিরোধ করার জন্য দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করার দাবিও জানান তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত “রাজনৈতিক ঐক্য ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের প্রধান নিয়ামক” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।

দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে ও বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহাসান বুলবুলের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে দুদক কমিশনার মো.সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, এমপি মমতাজ বেগম, এফবিসিসিআই’র সাবেক দু সভাপতি বক্তব্য রাখেন। এছা্ড়া বিভিন্ন বিশ্বিবিদ্যালয় ও গবেষণা সংগঠনের গবেষক,সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলে থাকার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানই ন্যায়ের ওপর থেকে কাজ করতে পারে না। ক্ষমতার কাছে সব কিছু জিম্মি হয়ে আছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরা আমাদের দেশের সকল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রন করে। রাজনীতিবিদদরা সঠিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী না হলে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে দলীয়করণ হয়ে গেছে। নিয়োগ-বদলি-পদ্দোন্নতি-পদাবনতি এ সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ম অনুসারে না হলে প্রশাসন কখনো দলীয়করণ মুক্ত হতে পারবে না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার বলে কিছু নেই। কমিশনের শক্তিও সীমিত।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, গণমাধ্যমে ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে অনেক সময় দেখা যায়, সরকার তার প্রতিবাদ জানায়। তবে বাকি সত্য সংবাদগুলোর জন্য সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনা। যারা রাজনীতি করেন, তারা না চাইলে কিছুই হবেনা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, সমাজে অনুসরণ করার মত সৎ মানুষ কমে গেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে বর্তমান সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। দুদককে শক্তিশালী করতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিটি মানুষের জন্য সু-শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

সিপিবি’র সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বর্তমানে দুর্নীতি এমনভাবে ছড়িয়ে গেছে যে, সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষধ দেবো কোথা?- এমন অবস্থা হয়েছে। আমাদের দেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে আর কোন ঐক্য না থাকলেও একটি বিষয়ে ঐক্য আছে, তা হলো লুটপাটের ঐক্য। এর কারণ হলো, তারা দুর্নীতিবাজদের কাছে জিম্মী।

সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তা চরিত্র হনননামায় পরিণত হয়েছে।

এইউ নয়ন