রানা প্লাজা ট্রাজেডি; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫৭ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি

0
103

Rana_plaza_affectedরানা প্লাজা ট্রাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি-অল বাংলাদেশ কাউন্সিল।

ইন্ডাস্ট্রি-অলের প্রধান রায় রমেশ চন্দ্র ’লস অব ফিউচার আর্নিং’, ’পেইন এন্ড সাফারিং’ নীতিমালা এবং আইএলও এর কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। আর ওই আইনগুলো অনুসারে তারা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারকে ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে রায় রমেশ চন্দ্র এ দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, আইএলও এর কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী দুঃখ ও দুর্দশার ক্ষতিপূরণ, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ, আয় হারানো ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের প্রতি ক্ষতিপূরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট অর্থের পরিমান নির্ধারিত করেছে।

ইন্ডাস্ট্রি-অল দেখিয়েছে, কনভেনশন অনুসারে প্রতিমাসে গড় মজুরি ৬ হাজার টাকা এবং বছরে দুটি উৎসবভাতা ১২ হাজার টাকা হিসেবে প্রতিটি শ্রমিক পরিবার গড়ে ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ৭শ ৫৮ টাকা পাবে।

এক্ষেত্রে তারা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, বর্তমানে দেশের গড় আয়ু ৬৭ বছর; সেই হিসেবে একজন শ্রমিক যদি ২৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ কওে তবে বাকি ৪০ বছর কর্মক্ষমতার জন্য সে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।

এজন্য তারা হিসাব দেখায়, এক বছরে মোট ৮৪ হাজার টাকা বেতনের ৫০ শতাংশ হিসেবে ৪২ হাজার টাকা এবং সঙ্গে ৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি সহ ৪০ বছরে মোট ক্ষতিপূরণের পরিমান দাঁড়ায় ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৭শ ৫৮ টাকা। এর সাথে যোগ হয় দুঃখ এবং দুর্দশার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা।

রমেশ চন্দ্র লিখিত বক্তব্যে বলেন, ইন্ডাস্ট্রি-অল এর উদ্যেগে বিশ্বের ১৫৫ টি বায়ার কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ‘বিল্ডিং এন্ড ফায়ার সেফটি আ্যকর্ড’ স্বাক্ষর করেছে।তবে অনেক বড় ক্রেতার এখনও সহায়তার আও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের জন্য তহবিল দিতে এগিয়ে আসেনি।

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের জন্য ইন্ডাস্ট্রি-অল এর পক্ষ থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বানও জানান তিনি।

এ সময় তিনি ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহকে এখন থেকেই বিল্ডিং কোড অনুসরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন ও আইনী ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১১২৯ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও ২৫০০ মানুষ। নিহত এবং আহতদের অধিকাংশই রানা প্লাজায় বিভিন্ন পোশাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানা থেকে প্রাইমার্ক, ওয়ালমার্ট, টেক্সম্যান, পিডব্লিউটি গ্রুপ, এনকেডি, ম্যাংগো, জেসিপেনি, গোল্ডেনপি ফেনিং, এলপিপি, ইসেনজা, কেয়ারফোর, সিঅ্যান্ডএ, ক্যাটোকোপ, চিল্ড্রেন প্লেস, বেনিটোন, আদিয়ার, আউচান, ড্রেসহার্ন, মেনিফাটুরা করোনা, প্রিমিয়ার ক্লোথিং, কিডস্ ফ্যাশন, স্টোর-২১, মাস্কট, মাটালান, এল কোর্টে ইনগিস, কিক, লবলো, বন মারচে, ক্যামিউ এর মতো মোট ২৯ প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক উৎপাদন করা হত।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা’র (আইএলও) তত্ত্বাবধানে রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ ৪০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হয়। এই পর্যন্ত প্রায় ১৬টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ইন্ডাস্ট্রি-অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সদস্য আমিরুল হক আমিন, আবু তাহের, সালাউদ্দিন স্বপন, রুহুল আমিন প্রমুখ।

জেইউ/