হিলি স্থলবন্দরে পণ্য-পরিবহন ভাড়া বেড়েছে দুই থেকে তিনগুণ

Hili-port

Hili-portতিন দফা অবরোধ কর্মসূচির কারণে হিলি স্থলবন্দরে স্থবির হয়ে পড়া পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে। গতকাল বুধবার বন্দরে পচনশীল পণ্য জরুরি ভিত্তিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৩ বর্ডার গার্ড জয়পুহাট ব্যাটালিয়ন সক্রিয় পাহারায় ৩৯টি পণ্যবাহী ট্রাক বগুড়া মোকামতলা পর্যন্ত পৌছে দেয়।

আমদানিকারক, ট্রাক মালিক ও ট্রাক বন্দোবস্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বাড়লেও ভাড়া গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত। গতকাল বুধবার পর্যন্ত হিলি থেকে সৈয়দপুর ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার ও হিলি থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া ১লক্ষ ১০ হাজার থেকে ১২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে। যা অন্যান্য সময়ে চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।

ট্রাক বন্দোবস্তকারী শাহ জামাল মল্লিক, মজনু মিয়া জানান, ট্রাক ড্রাইভার ও মালিকরা জান মালের ঝুঁকি নিয়ে সারা দেশে পণ্য পরিবহন করছে। তাছাড়া চাহিদা অনুযায়ী ট্রাক না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাহিলি কাষ্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন বলেন, অবরোধে হিলি বন্দরে আমদানিকৃত মালামাল উঠা-নামা, পণ্য বাজারজাত করাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাজ কম হয়েছে। গতকাল (বুধবার) বেশ কিছু কাঁচাপণ্যবাহী ট্রাক বিজিবির পাহারায় গন্তব্যস্থলে পৌছানোর ব্যবস্থা করেছে।

বাংলাহিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৮০-২০০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। কিন্তু অবরোধের গত শনিবার বুধবার পর্যন্ত ৫ দিনে মোট ৪০৪ টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বন্দরের প্রতিদিনের রাজস্ব টার্গেট ৫০ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১৯ কোটি টাকা। এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমস সহকারি কমিশনার মো. মাজেদুল হক বলেন, লাগাতার অবরোধে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে কম ঢুকেছে। কমছে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ। অবরোধে পণ্যজটের সৃষ্টি হওয়ায় আগামিকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখার লক্ষ্যে বন্দরের ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এআর