‘সুন্দরবন বিনাশী আইন হবে আত্মঘাতী’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
98
ছবি: জয়নাল আবেদীন।

সুন্দরবনের মারাত্মক দূষণকারী ২৪ শ্রেণীর কারখানাকে দূষণমুক্ত ঘোষণা করা আত্মঘাতী ও বেআইনী। এই আইনের মাধ্যমে দেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। বনের পাশ্ববর্তী এলাকাতে কারখানা নির্মাণ হলে প্রকৃতি, জলবায়ু, পশু-পাখি এবং জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল।

তিনি বলেন, সুন্দরবন নামক মানবসম্পদ নষ্ট করে যদি এই এলাকাতে কোনো কারখানা নির্মাণ হয় তাহলে বাংলদেশের মানুষ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। এর জন্য দায়ী থাকবে বর্তমান সরকার।

ছবি: জয়নাল আবেদীন।

সুন্দরবনের এক পাশের বাইরের একটি অংশকে বাফার জোন আর ভিতরের প্রধান অংশকে কোর জোন ঘোষণা করেছে সরকার। তথাকথিত বাফার জোনে ২৪ শ্রেণীর কারখানাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে গাছপালা কম থাকলেও এটি বনেরই অংশ। এখন এই এলাকায় কারখানা নির্মাণ হলে বনের প্রধান অংশ থেকে আবার বাফার জোন ঘোষণা করতে হবে। সুতরাং আস্তে আস্তে সুন্দরবন ছোট হয়ে আসবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করায় এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায় সংগঠনটি।

বক্তারা বলেন, চলতি বছরের আগষ্ট মাসে প্রধানমন্ত্রীর সচিব তাদের আশ্বাস দেন, যদি আপনারা যুক্তিযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেন তাহলে এই এলাকায় কারখানা নির্মাণ করা হবে না। অত :পর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকের মাধ্যমে গবেষণা করা হয়। গবেষণা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পেশ করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কারখানা নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

সর্বোপরি সুন্দরবনের মারাত্মক দূষণকারী ২৪ টি লাল তালিকাভুক্ত শ্রেণীর কারখানাকে ‘দূষণমুক্ত ঘোষণার আত্মঘাতী বেআইনী আদেশ বাতিলের দাবী জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নতুন করে শিল্প-কারখানা স্থাপন না করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কারণ নির্দিষ্ট দূরুত্ব বজায় না রাখলে ধীরে ধীরে সুন্দরবন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সেই আইন পরিবর্তন করে পরিবেশ বিনাশী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এমনটাই মন্তব্য করেছেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কমিটির সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর