অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রে শুল্ক প্রত্যাহার জরুরি: মোহাম্মদ হাতেম

0
129
hatem bkmea

hatem bkmeaতৈরি পোশাক শিল্পে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রসহ আনুষঙ্গিক উপকরণে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার মানুফেকশ্চারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটি মনে করে, বিদেশী ক্রেতাদের দুটি ফোরাম অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে পোশাক কারখানাগুলোকে মান উত্তরণে সহায়তার জন্য এই সুবিধা এটা জরুরি।

বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অর্থসূচককে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি পোশাক শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার মান ও পরিবেশ ইস্যুটি ক্রেতাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাপে তারা এ ইস্যুতে অনেক কঠোর অবস্থানে। নিট পোশাক খাতে বেশিরভাগ কারখানা কমপ্লায়েন্ট। এগুলো ক্রেতাদের নির্ধারণ করে দেওয়া মান নিশ্চিত করেই কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু কিছু কারখানায় অগ্নি নির্বাপনের আধুনিক প্রযুক্তি নেই। শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে এগুলোকে এ প্রযুক্তি নিয়ে আসার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে অনেক কারখানা মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হতে পারে। এমনটি হলে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হোঁচট খাবে। বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারাবে।

অর্থসূচককে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগামি বাজেটে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানাবেন তারা। পোশাক খাতে ব্যবহৃত সব আমদানি সামগ্রীর ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেবেন।

তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সহায়তা ও প্রনোদনার জন্য ২ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু এটি অপর্যাপ্ত ও অপ্রতুল বলে বিবেচিত হয়েছে। আগামি বছরের বাজেটে যেন আমাদের এই প্রণোদণা ও নগদ সহায়তা বাড়ানো হয় তা চাইবো আমরা।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তার সঙ্গে এই শিল্পের আরও কিছু সামগ্রী আমদানি করতে হয় যা খুবই ব্যয়বহুল। আমরা চাইবো এবারের বাজেটে এসব আমদানি সামগ্রীর শুল্ক মুক্ত করা হোক।

বিগত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক খাত অস্থিরতার মধ্যে পড়েছিল। মূলত আমরা এই অস্থিরতা থেকে শিল্পকে দ্রুত টেনে তুলতে এই প্রণোদনা চেয়েছিলাম। যা আমাদের তাৎক্ষণিক দরকার ছিল। কিন্তু আমরা সরকারের কাছ থেকে এই সহায়তাটুকু পাইনি। সরকার এটা দিতে দেরি করছে। আজ প্রায় পাঁচ মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে।

‘আমরা আপদকালীন সময়ের জন্য বিশেষ সহায়তা চেয়েছিলাম। যাতে আমরা টিকে থাকতে পারি। সরকার উৎসে আয় কর দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে। এটা ভালো উদ্যোগ। তবে এখনও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয় নি। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপনটি জারি হোক। আর এটি যেন যথেষ্ট সহজ করা হয়। কোনো জটিলতা না থাকে। সামান্য আর্থিক সুবিধার জন্য যেন উদ্যোক্তাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের চার মাসের বেতন দেওয়ার জন্য ঋণ চেয়েছিলাম। যা দিতে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজি হয়েছিল। যা তারা এক বছরের জন্য ঋণ দেবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় তারা এটা দিতে পারেনি’। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের বর্ধিত মজুরি নীট খাতে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কারখানায় বাস্তবায়ন হয়েছে। শিগগিরই বাকীটা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ডে’র মজুরি বৃদ্ধি পোশাক মালিকদের জন্য সহনীয় ছিল না বলে মনে করেন তিনি। এটা বাস্তবতার নিরিখে হয়নি। আবেগের বসবতি হয়ে এটা করা হয়েছে বলে দাবি তার।

পোশাক শিল্পের নতুন বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, বিকেএমইএ সব সময়ই নতুন বাজার সৃষ্টি ও প্রবৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, চিলি, কলম্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চিন, মালয়শিয়া, ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি। এর জন্য আগামি জুন মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় এক প্রতিনিধি দল সফরে যাবেন বলে জানান তিনি।

তিনি সরকারের কাছে পোশাক কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এখন শিল্পের অবস্থা ধীরে ধীরে ভালোর দিকে যাচ্ছে। কারখানার মান পরিবর্তনে কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে যে চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে তা মোকাবেলা করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।