এপ্রিল ফুল নিয়ে একটু ভুল!

0
88

april1আরেক জনকে বোকা বানিয়ে আনন্দ নেওয়াটা মানব সমাজের ইতিহাস নতুন নয়। হাজার বছর আগেও যেমন ছিলো এখন তেমনই আছে। দিন বদলের ধরাবাহিকতায় কেবল বোকা বানানোর ধরন বদলেছে মাত্র।

ইউরোপের দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও এখন বোকা বানানো রীতমিতো উদযাপিত হয়। ১ এপ্রিল অনেকেই নানা কৌশলে বোকা বানানোর চেষ্টা করেন বন্ধু বা প্রিয়জনদের।

তবে আমাদের দেশে নানা কারণে ১ এপ্রিল উদযাপনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা মত। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি যে কথাটি প্রচলতি সেখানে ধর্মীয় কারণটাকেই বড় করে দেখানো হয়। ২০১২ সালের ১ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম দৈনিক প্রথম আলোর ব্লগে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। সেখানে এপ্রিল  ফুলকে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে যে পোস্টটি দেওয়া হয় তাতে বলা হয় , ‘সেদিন ছিল ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল । দুর্ভাগ্যতাড়িত গ্রানাডাবাসী অসহায় নারী ও মাসুম বাচ্চাদের করুণ মুখের দিয়ে তাকিয়ে খ্রিষ্টানদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে খুলে দেয় শহরের প্রধান ফটক। সবাইকে নিয়ে আশ্রয় নেয় আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদে । শহরে প্রবেশ করে খ্রিষ্টান বাহিনী মুসলমানদেরকে মসজিদের ভেতর আটকে রেখে প্রতিটি মসজিদে তালা লাগিয়ে দেয় । এরপর একযোগে শহরের সমস্ত মসজিদে আগুন লাগিয়ে বর্বর উল্লাসে মেতে ওঠে হায়েনারা। লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ-শিশু অসহায় আর্তনাদ করতে করতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় মসজিদের ভেতর ।

প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখায় দগ্ধ অসহায় মুসলমানদের আর্তচিৎকার যখন গ্রানাডার আকাশ-বাতাস ভারী ও শোকাতুর করে তুলল তখন রাণী ইসাবেলা হেসে বলতে লাগলো, ‘হায় এপ্রিলের বোকা! শত্রুর আশ্বাস কেউ বিশ্বাস করে?’

নিবন্ধটিতে দাবি করা হয় ওই ঘটনার পর থেকে ইউরোপের অমুসলিমরা দিনটি মুসলমাদের বোকা বানানোর দিন হিসেবে উদযাপন করে আসছে।

তবে এপ্রিল ফুলের পটভুমি নিয়ে যৌক্তিক ইতিহাস যেটা জানা যায় তা হলো দিনটি উদযাপিত হয় ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের ইস্যু ধরে।

প্রাচীন ইতিহাসে দেখা যায় তখন বছর হিসাব করা হতো ১ এপ্রিল থেকে। তবে মধ্যযুগ এসে পোপ তৃতীয় গ্রেগরি ঘোষণা করলেন এখন থেকে নতুন বছর উদযাপিত হবে ১ জানুয়ারি। ফলে বদলে গেল আগের জুলয়িান ক্যালেন্ডারও।

কিন্তু পোপের এ আদেশ সকলে পালন  না করে কেউকেউ সেই আগের তারিখেই বর্ষবরণের আয়োজন করে যেতে লাগলো। বিশেষ করে ফ্রান্সের সাবেক পন্থীরা ১ এপ্রিলকে বেশ ঘটা করেই বছরের  প্রথম দিন হিসেবে উদযাপন করতে থাকলো । কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই সকলেই ১ জানুয়ারিতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠলে তখন সাবেকপন্থীদের বোকা বলে তুচ্ছ করা শুরু হলো। সেই সময় থেকেই ১ এপ্রিলকে বোকাদের দিন হিসেবে পালন করা হয়।

তবে এই আরেকট মতবাদ পাওয়া যায় এমন যে, সম্রাট কন্সাটানটাইন্ট এর সময় জ্ঞানীরা সাধারণ লোকদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য নতুন এক উপায় বের করে। তারা প্রহসন ও বোকা বানানোর মাধ্যমে লোকদের শিক্ষা দেওয়া শুরু করে।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জোসেপ বসকিন তার এক গবেষণায় জানান, কন্সাটানটাইন্ট তার সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণে ও স্থায়ীত্বের বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য কুগাল নামের এক জ্ঞানী ব্যক্তিকে এক দিনের জন্য সম্রাট হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই দিনটি ছিলো ১ এপ্রিল। আর তখন থেকেই বাইজেনটাই সাম্রাজ্যে দিনটি বোকা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

বসকিনের একই মতবাদটি নিয়ে সংবাদ সংস্থা এপি বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নিবন্ধও প্রকাশ করে। শুধু তাই নয় ১৯৯৩ সালে এপি কয়েক সপ্তাহের একটি গবেষণা জরিপ চালিয়ে দেখে যে আসলেই বোকা বানিয়ে মানুষকে বেশি সচেতন করা যায়।

তবে ইতিহাসে সত্যি ঘটনা যেটাই হোক সাময়িক  আনন্দ আর রসিকতা করার এমন লাগাম ছাড়া দিনটিতে সুযোগ পেলে কেউই পাশের লোকটিকে বোকা বানানোর সুযোগ হাত ছাড়া করেন না।