চাঁদপুরে কামরুজ্জামান চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন

0
76
chadpur
চাঁদপুরের মানচিত্র

chadpurচাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রখ্যাত সমাজসেবক, দক্ষ ক্রীড়াবিদ, বলিষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠক কামরুজ্জামান চৌধুরীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর পূর্বে দুপুরে এ্যাম্বুলেন্সে করে মরহুমকে ঢাকা থেকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আনা হয়।

প্রেসক্লাবে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা মিলে শোক র‌্যালী বের করে। র‌্যালীটি প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এসে মরহুমকে রাখা হয়। বাদ আসর মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযার পূর্বে মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন, পুলিশ সুপার আমির জাফর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারি, জেলা বিএনপির সাধারণ-সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, প্রেসক্লাব সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী: কামরুজ্জামান চৌধুরী চাঁদপুর শহরের শহীদ রেহানবাগে ১৯৩৯ সালের ১৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নূরুজ্জামান চৌধুরী ও মাতার নাম হুরেরনেছা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও বিপিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৭৭ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজে শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে এবং ৩১ জানুয়ারি ১৯৭৭ হতে ১১ জুন ১৯৯৭ পর্যন্ত কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে স্পোর্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৫৬-১৯৬২ চাঁদপুর কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল ও ভলিবলে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি চাঁদপুর কলেজ ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান ফুটবল ট্রফি লাভ করেন। ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ফুটবলে মোহামেডান এসসির খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার নিয়োগ লাভ করেন ও পত্রিকাটি বন্ধ হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রতিনিধি ছিলেন এবং ডেইলি সান পত্রিকা প্রকাশনার শুরু থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত চাঁদপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি ১৯৬৮ হতে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, চাঁদপুর শাখার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭২ সালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোক্তা। ১৯৭৬-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর স্টেডিয়াম কমিটির সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৭-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া চাঁদপুর রোটারীক্লাবের চার্টার সদস্য, চাঁদপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য, চাঁদপুর জেলা স্কাউটসের সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতার জন্য চাঁদপুরের সকল দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্মাননা লাভ করেন। তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া লেখক সমিতি, ছাত্র ইউনিয়ন চাঁদপুর শাখা ও চাঁদপুর ক্রিকেট খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সম্মাননা, অংকুর কচি-কাঁচার মেলা, অনন্যা পদক, চাঁদপুর প্রবাহ সম্মাননা, চাঁদপুর কণ্ঠ সম্মাননা, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ৪০ বর্ষ উদযাপনব উপলক্ষে সম্মাননা ও চতুরঙ্গ ইলিশ উৎসবে সম্মাননা লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশন ও চট্রগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ছিলেন। এছাড়া, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে বিভিন্ন পদবীতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি দু’বার পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড থেকে অবসর গ্রহণের পর উদয়ন শিশু বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন।