বিদেশি কোম্পানির কর রেয়াত সুবিধা বাতিল চায় বিশিষ্টজনরা

0
135
সুপ্র Supro

সুপ্র Suproকর রেয়াত সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা করে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশী কোম্পানিগুলো। আর দেশি কোম্পানিগুলো করের আওতায় থাকায় পড়ছে অসম প্রতিযোগিতার মুখে। এতে দেশিয় শিল্প পিছিয়ে পড়ছে।

দেশের বিশিষ্টজনরা এমন মত দিয়েছেন। অন্যদিকে তারা মনে করেন, সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় বলে কর দিতে অনীহা দেখায়।

 সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে ডেইলি স্টার ভবনে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত “কর, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা এবং কর পার্থক্য বিশ্লেষণ”জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ  সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য কালিপদ হালদার, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও দেশের ৪৫টি জেলা থেকে সুপ্র এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৮৫জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রর চেয়ারপার্সন মুস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাঘব-বোয়ালদের তুলনায় সাধারণ মানুষ কর দিতে বেশি আগ্রহী। তবে করের টাকার বিনিময়ে সরকারি যে সুবিধা তাদের পাওয়ার কথা তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র। চিকিৎসা, শিক্ষাসহ মৌলিক প্রয়োজন গুলো মিটানোর জন্য মানুষকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। আর কর রেয়াত সুবিধা নিয়ে বিদেশিদের পার্টনারশিপ হয়ে সব সুবিধা ভোগ করছে কিছু দুর্নীতিবাজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, এনবিআর অটোমেশনে যাচ্ছে। অন লাইনে ই-টিআইএন দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই অনলাইনে রিটার্ন (আয়কর বিবরণী) জমা দেওয়া যাবে। এনবিআর চেষ্টা করছে যাতে রাজস্ব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসে।

তিনি আরও বলেন, আমি ব্যাক্তিগতভাবে কর রেয়াতের পক্ষে নই। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বিদেশী কোম্পানির অডিট না করতে নির্দেশ দিয়ছিলেন। অথচ আমাদের দেশের ছেলেরা বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে  পরিশ্রম করা আয় দেশে পাঠালে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয় না।

অনুষ্ঠানে আলোচকের বক্তৃতায় অ্যাকশান এইড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, প্রতি বছর সরকার যে বাজেট প্রণয়ন করেন তার অর্থের প্রধান উৎসই জনগণের রাজস্ব। তাই সরকারকে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার জায়গাটি পরিস্কার থাকতে হবে। সরকার ধার্যকৃত সকল করই আদায় হয় না। এ বিষয়গুলিতে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে বড় বড় কোম্পানীগুলি নানান ফাঁক ফোকর দিয়ে কর রেয়াত সুবিধা নিয়ে থাকে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রভাবশালী ক্ষমতাবান মানুষরাই এ সুবিধা ভোগ করে থাকে। তাই এ সুবিধা বাতিল করা উচিত।

ফারাহ কবীর বলেন, কর আদায়ে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজস্ব আদায় পদ্ধতিতে। সরকারের কাছে হিসাব নেই ঠিক কত জন করের আওতায়।

মানুষ কেন কর দিবে এমন প্রশ্ন তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে সরকারী সেবা না পেলে জনগণ রাজস্ব পরিশোধে আগ্রহী হবে না। অনেক দেশ আছে যেখানে মানুষ ৪০/৫০ শতাংশ কর দেয়। তারা সকল সুবিধা পায় রাষ্ট্রের কাছ থেকে। এদেশের সরকার রাজস্বের টাকা নিয়ে কি করছে তা নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। কোন জবাব দিহিতা নেই। রাষ্ট্রের নেতা, মন্ত্রী বা সরকারী কর্মকর্তারা আমাদের টাকায় চলছেন। তাই সেখানে জবাবদিহিতা থাকতে হবে।

আলোচনায় সুপ্রর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্য আছে-পরোক্ষ করের উপর নির্ভশীলতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের উপর নির্ভরতা বাড়ানো; করের অর্থ সঠিকভাবে ও প্রয়োজনানুসারে জনগণের জন্য সেবা খাতে ব্যয় করা; জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনসেবা খাতে বেশি  বরাদ্ধ দেওয়া; বিদেশী কোম্পানিগুলোর কর রেয়াত সুবিধা বাতিল করা, প্রয়োজনে তাদের উপর বেশি পরিমণে কর আরোপ করে সেই করের অর্থ জনগণের সেবায় ব্যবহার ইত্যাদি।

এইউ নয়ন