পাঠ্যবইতে থাকলেও সিলেবাসে থাকবে না মুসার এভারেস্ট জয়ের কাহিনী

0
82
NCT
পাঠ্যপুস্তক ভবন।

NCTB“তখন কেবল সূর্য উঠছে, পূর্ব দিগন্তে লাল সূর্য।এরকম একটা মুহুর্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এভারেস্টের শীর্ষে উড়িয়ে দিলেন এক তরুণ। নাম তাঁর মুসা ইব্রাহিম। সেই প্রথম কোনো বাংলাদেশীর এভারেস্ট বিজয়। দিনটা ছিল ২৩ মে, ২০১০ সাল।সময় ভোর ৫টা ৫৫ মিনিট”-এভাবেই মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে ৫ম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্য বইয়ে।

কচি শিশুদের এসব বীরত্ব গাঁথা শুনিয়ে অনুপ্রেরণা দানের জন্যই মূলত পাঠ্যপুস্তকে এমন নানা কাহিনী বর্ণনা করা হয়। এমন অসাধ্য সাধনের কারণে বিভিন্ন শ্রেণীতে বর্ণনা করা হয়েছে এডমন্ড হিলারি, নিল আর্মস্ট্রং, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়, টমাস আলভা এডিসন, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুদের কথা।

তবে এভারেস্ট জয়ের জন্য মুসা ইব্রাহীমকে নায়কের ভূমিকায় রেখে ৫ম শ্রেণীর পাঠ্য বইতে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হয়তো এবার কল্পকাহিনীতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

২০১০ সালে মুসার এভারেস্ট জয় নিয়ে তখন থেকেই সন্দেহ পোষণ করে আসছিলেন অনেকেই। মুসাকে প্রথম এভারেস্ট জয়ী না বলার কারণে আদালতে মামলা হয়েছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইনাম আল হক এর বিরুদ্ধেও। সে সময় তিনি মুসার এভারেস্ট জয় নিয়ে একটি নিবন্ধও লেখেন ‘চন্দ্রাবতী একাডেমি’ প্রকাশিত  মাসিক সাময়িকীতে।

আর এই মামলা চলাকালেই বের হয়ে এসেছে মুসার এভারেস্ট জয়ের কল্পকাহিনী। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ এর এক প্রতিবেদনে তার এভারেস্ট জয়ের ঘটনা মোটামুটি মিথ্যাই প্রমাণিত হতে চলেছে। এভারেস্ট জয়ের ঘটনাকে সাজানো উল্লেখ করে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন।

পর্বত বিজয়ের স্বাক্ষর হিসেবে মুসা যেসব প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন সেগুলো অসত্য বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এভারেস্ট জয়ের বিতর্কের প্রেক্ষিতে আদালতে মামলা চলাকালে নেপাল থেকে প্রকাশিত ‘নেপাল পর্বত’ এর তালিকায় মুসার নাম না থাকায় এই নতুন করে বিতর্কের শুরু হয়েছে।

‘নেপাল পর্বত’ এর তালিকা অনুসারে এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী-পুরুষের যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে রয়েছে এম এ মুহিত ও নিশাত মজুমদারের নাম। ২০১০ সালে হিমালয় চূড়ায় উঠার স্বপক্ষে মুসা যে ছবি ও প্রমাণাদি দেখিয়েছিলেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ পোষণ করে আসছিলেন এম এ মুহিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জিম্বা জাংবু শেরপা মুসা ইব্রাহিমের ওইসব ছবিকে এভারেস্ট শৃঙ্গের নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে এটি সাত হাজার ফুট নিচে তোলা ছবি। এভারেস্টজয়ী আরেকজন থেম্বু শেরপাও এ ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তি মজবুত হলে যদি মুসার বিজয় কাহিনী মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে পাঠ্য পুস্তকের ওই অংশ থাকবে অপরিবর্তিত। তবে তা সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত হবে না।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সচিব ব্রজ গোপাল ভৌমিক অর্থসূচককে জানান “এই অভিযোগটি প্রমাণ হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে চিঠি দেওয়া হবে। এর পরে ওই বিষয়টি পাঠ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে এবছরই কোনো নতুন বই ছাপানো হবে না”।