জলবায়ু পরিবর্তন : ২০৫০ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন ২৫ শতাংশ হ্রাসের আশঙ্কা

0
117
global
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন মরুময় হয়ে উঠতে পারে বিশ্ব প্রকৃতি। ফলে কমতে পারে খাদ্য শস্যের উৎপাদন। দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি…

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় আর অনাকাঙ্খিত নয়, বরং পৃথিবীর একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণীর নির্বুদ্ধিতার ফল। আশংকার কথা হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা আমাদের অনুমানের চেয়ে মারাত্মক হয়ে ওঠতে যাচ্ছে। এমনকি এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে করা না হলে আগামি দিনগুলোতে খাদ্য, পানি এবং বাসস্থানের অভাবে পৃথিবী মানুষের জন্য সাক্ষাৎ নরকে পরিণত হবে। সম্প্রতি ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর সিএনএন এবং বিবিসির।

আইপিসিসি জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামি ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট, সুপেয় পানির চাহিদা এবং বাসস্থানের অভাবে আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এছাড়াও উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মাছ আবাসস্থলে পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ শিকারের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

আইপিসিসি প্রতি ছয় বছর অন্তর বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার জাপানের ইয়াকোহোমা আগামি দিনগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইপিসিসি। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের অনুমানের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে যাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব। আর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোই হতে যাচ্ছে এর প্রাথমিক শিকার এবং এই দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে। এমনকি পৃথিবীর আকর্টিক মহাসাগর এবং কোরাল রিফের মতো অনন্য বাস্তুসংস্থান বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে।

আইপিসিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ঝুঁকি শুধু বাড়তেই থাকবে। তাই এখনই মানুষের জন্য খাদ্য, পানি এবং বাসস্থান নিশ্চিত করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বিশেষ করে পৃথিবীর দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব হয়ে ওঠবে সবচেয়ে ভয়াবহ।

আইপিসিসি’র এই শংকা গত অক্টোবরে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা সংস্থার অনুমানকেই প্রতিধ্বনিত করেছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে মারাত্মক শিকার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অগণিত গরিব দেশ। তবে অদূর ভবিষ্যতে ধনী রাষ্ট্রগুলোও এর প্রভাব থেকে মুক্তি পাবে না।

আইপিসিসি মতে, ২১০০ সালের মধ্য পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা  ১.৬ দশমিক ছয় ডিগ্রি বাড়লে পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব সহনীয় হতে পারে। কিন্তু তাপমাত্রা যদি ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ভয়াবহতা হতে পারে কল্পনাতীত। তাই ধনী-গরিব বিভেদ ভুলে এখনই বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের লাগাম টেনে ধরা উচিত। এর মাধ্যমে হয়তো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত প্রতিকূলতা মোকাবেলায় মানুষ আরও একটু বেশি সময় পেতে পারে।