‘হঠাৎ করে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক’

হঠাৎ করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে দাবি করছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। রড সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী নির্মাণ কাজ সাময়িকভাব বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন। এতে নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিহ্যাব নেতারা। এতে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘সরকারের নতুন ট্যাক্স, ভ্যাট বৃদ্ধিতে দাম বাড়লে তাকে যৌক্তিক দাম বাড়ানো বলবো। এছাড়া এখন যেভাবে হঠাৎ করে দাম বাড়ছে সেটাকে আমরা যৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি বলবো না। কস্টিং বৃদ্ধির অজুহাতে মূল্য বৃদ্ধি কখনই যৌক্তিক নয়।’

শামসুল আলামিন বলেন, ‘বর্তমানে ৬০ গ্রেডের প্রতি টন রড ৬৮ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের প্রতি টন রড ৫৩ হাজার থেকে ৫৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও ৬০ গ্রেডের রড ৫৯ হাজার থেকে ৬০ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের রডের বাজারমূল্য ছিল ৫০ থেকে ৫১ হাজার টাকা। আর এক বছর আগে ৬০ গ্রেডের রড ৫২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের রডের বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৩ হাজার টাকায়। তার মানে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি টন রডের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।’

রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, ‘রডের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম বস্তা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ইটের দাম প্রতি হাজারে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই সময়ে সিমেন্টের ওপর কোনো ধরনের কর আরোপ করা হয়নি। বাড়েনি কাঁচামালের দাম। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধি কেন?’

এক প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘রড-সিমেন্টের দাম আগের অবস্থায় না ফিরলে ফ্ল্যাটের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে বুকিং দেওয়া ফ্ল্যাট চেঞ্জ করার সুযোগ নেই। যারা বুকিং দিয়েছে তাদের সেই রেটেই দিতে বাধ্য।’

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর