ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা বাতিল করা হবে: মোজাম্মেল হক

0
87
mojammel hoque

mojammel hoqueভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটাও বাতিল করতে হবে। তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। মুক্তিযুদ্ধাদের শুধু মুক্তিযোদ্ধা হলেই হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে। যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না হয় তাদের জন্য ওই কোটা অনুসারে চাকুরি বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য কোন সুযোগ সুবিধার দ্বার খোলা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে ছাত্র সমাজের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা, নবীনবরণ, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর অঙ্গ সংগঠন ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের’ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা করা পর্যন্ত ভালো, কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর তাদের কি অবস্থান ছিল তা খতিয়ে দেখতে হবে। তারা যদি স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আপস করে তাহলে তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি আর কারো মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। ৩০শতাংশ কোটায় আপনার সন্তান আপনার নাতীকে সরকার ট্যাক্স দিচ্ছে। আপনার ছেলে আপনার নাতী যদি ছাত্র শিবির করে তাহলে এই কোটা বাতিল করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই জাতীয় ভাবে সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা দেয়া হবে’।

মন্ত্রী বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে তাদের ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে হবে। একজন চোরও আগেরদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। মায়ের গর্ভ থেকে কেউ পাপী বা চোর, ডাকাত, খুনী হয়ে আসেনা। খুন করার আগ পর্যন্ত তারা ভালো থাকে, খুন করার পর তারা আর ভালো থাকে না।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ্যে এই বর্ণচোরা মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের স্বরূপ ও তাদের চরিত্র প্রকাশ করা হবে।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ৪০০বা ৫০০টাকা বেতন নিয়ে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কিভাবে রাষ্ট্রপতি হন? জিয়াউর রহমানের সাথে পাকিস্তান আর্মিদের সম্পর্ক ছিল। তিনি দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অচিরেই জাতির কাছেতার এই নথিপত্র প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক মাহবুবুল ইসলাম প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাবি শিক্ষক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আব্দুল জব্বার, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে শেষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাংবাদিক লালন মাহমুদ ও তার ব্যান্ড অর্জুণ।

এএইচ/সাকি