অবশেষে মাথানত ওয়ালমার্টের, দিচ্ছে সহায়তার অর্থ

0
71

OLYMPUS DIGITAL CAMERAরানা প্লাজা ধসের এক বছর হচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার  জন্য ঘটনার পরপরই গঠিত হয় বেশ কয়েকটি তহবিল। সহায়তার অর্থ দিতে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তে থাকে আন্তর্জাতিক চাপ। সে প্রেক্ষিতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য অর্থ দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কয়েকটি কোম্পানি সহায়তার অর্থ দিতে অসম্মতি জানায়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানি ওয়ালমার্ট তখন জানায় রানা প্লাজা ধসের সময় সেখানে তাদের কোনো পোশাক তৈরি হচ্ছিল না। আর তাজরীন ফ্যাশনে ওয়ালমার্টের পোশাক তৈরি হলেও তাদের অনুমোদন ছাড়াই তা হচ্ছিল। ওয়ালমার্ট জানায়, তারা দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে কাজ করবে।তবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক বা তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেবে না। সেসময় সিয়ারস ও চিলড্রেনস প্লেসও নামের আরও দুই কোম্পানি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানায়।

ওয়ালমার্টের এমন জবাবের পরে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লাগার দুই মাস আগে সরবরাহ করা কাপড়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রস্তুত হয়েছিল ওয়ালমার্টের জন্য। এছাড়া রানা প্লাজার থেকে উদ্ধারকৃত নথিতে দেখা যায়, পঞ্চম ফ্লোরে অবস্থিত ইথার ট্যাক্সের কারখানাতে ওয়ালমার্টের জন্য জিন্স প্রস্তুত করা হত।

এদিকে গত শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ তহবিলে ৪০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিন পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, গ্যাপ এবং চিলড্রেন প্যালেস।

আর  এই প্রথমবারের মত কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রানা প্লাজায় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করার ঘোষণা দেওয়া হল। সেই সাথে ওয়ালমার্টের মতো নাকউঁচু কোম্পানিগুলো শেষ পর্যন্ত মাথানত করলো।

নিউ ইউর্ক টাইম জানিয়েছে, দাতব্য সংস্থা ব্র্যাকের মাধ্যমে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ এবং চিলড্রেন প্লেসের অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার প্রদান করবে ওয়ালমার্ট এবং বাকি অর্থ সমানভাগে গ্যাপ ও চিলড্রেন প্লেসের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। এর আগে ব্র্যাক নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ২২ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১১২৯ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও ২৫০০ মানুষ। নিহত এবং আহতদের অধিকাংশই রানা প্লাজায় বিভিন্ন পোশাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানা থেকে প্রাইমার্ক, ওয়ালমার্ট, টেক্সম্যান, পিডব্লিউটি গ্রুপ, এনকেডি, ম্যাংগো, জেসিপেনি, গোল্ডেনপি ফেনিং, এলপিপি, ইসেনজা, কেয়ারফোর, সিঅ্যান্ডএ, ক্যাটোকোপ, চিল্ড্রেন প্লেস, বেনিটোন, আদিয়ার, আউচান, ড্রেসহার্ন, মেনিফাটুরা করোনা, প্রিমিয়ার ক্লোথিং, কিডস্ ফ্যাশন, স্টোর-২১, মাস্কট, মাটালান, এল কোর্টে ইনগিস, কিক, লবলো, বন মারচে, ক্যামিউ এর মতো মোট ২৯ প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক উৎপাদন করা হত।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা’র (আইএলও) তত্ত্বাবধানে রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা হয়। এই পর্যন্ত প্রায় ১৬টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ওয়ালমার্ট, গ্যাপ এবং চিলড্রেন প্লেসের নাম।

এক বিবৃতিতে পৃথিবীর বৃহত্তম চেইন সুপার শপের স্বত্বাধিকারী ওয়ালমার্ট জানায়, বাংলাদেশের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশন এবং আসদার পক্ষ থেকে ৩০ লাখ ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। এই সময়ও ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে রানা প্লাজার পোশাক উৎপাদনের কথা অস্বীকার করা হয়।

একই সুর শোনা যাচ্ছিল গ্যাপ এবং চিলড্রেন প্লেসের মুখে। প্রতিষ্ঠান দু’টির দাবি, রানা প্লাজায় কোন ধরনের উৎপাদন সাথে জড়িত ছিল না গ্যাপ এবং চিলড্রেন প্লেস।  উদ্ধারকৃত নথিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার প্রায় আটমাস আগে রানা প্লাজায় অবস্থিত নিউ ওয়েভ চিলড্রেন প্লেসের জন্য পোশাক প্রস্তুত করেছে। তবে গ্যাপের উৎপাদনের ব্যাপারে নথি পাওয়া না গেলেও রানা প্লাজার কয়েকটি কারখানায় গ্যাপের স্টিকার খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রানা প্লাজার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক উৎপাদন করা হত। তাই হয়তো পোশাক উৎপাদনের বিষয়টি তাদের নজর এড়িয়ে গেছে। কিন্তু তাই বলে সহায়তা প্রদানে গড়িমসি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তারা।