একই চিত্র, হারের বৃত্তেই থাকলো বাংলাদেশ

0
65

U Akmal out__Momin_বোলিং, ফিল্ডিং ও ব্যাটিং সব দিকে যেন বরাবরই একই রকম খেলতে হবে বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক সময়ের ম্যাচ গুলোর মতো পাকিস্তানের কাছে তিন বিভাগেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ৫০ রানের বড় ব্যবধানে হারলো টাইগাররা। ফলে প্রথম পর্বের দুই জয় ছাড়া টানা পরাজয়ের বৃত্তেই থাকলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

রোববার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার টেন পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেও পূর্ব অনুমিত ওই চিত্রকল্প বদলাতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও মোহাম্মদ হাফিজ বাহিনীর ছুঁড়ে দেয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালই ছিল টাইগারদের। ফর্মে ফেরার প্রত্যয় দেখাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল । অনেকটা দেখেশুনে খেলছিলেন তিনি। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে তো আর কোনো পূর্বানুমান খাটে না। তাই প্রত্যাশার সীমানাটা যখন বেড়ে উড়ছিল, ঠিক তখনই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তামিম। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে উমর গুলের বলে পুরো লাইন মিস করার পরও তার পরের বলেই একই ভাবে খেলতে গিয়ে দলের সর্বনাশ ঠেকে আনেন তামিম (১৬)।

এরপর আনামুলের আউটটা অসর্তকার ফল। সাঈদ আজমলের মতো অভিজ্ঞ বোলারের সামনে তিনি যে একেবারে নবীন তা তার আউটের ধরনেই বোঝা গেছে। আজমলের গুগলি বুঝতে না পেরে বোলারের হাতেই রিটার্ন ক্যাচ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার এই ব্যাটসম্যান। পরে মুশফিক ও শামসুর রহমানের টানা আউটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ব্যর্থতার দৈন্যতা ফুটে উঠেছে।

ওয়ান ডাউনে নামা সাকিব দর্শক মনে আশা জাগালেও নিজের ‘ছটফটানি’র কারণে আউট হয়েছেন। ১৫তম ওভারের শেষ বলে গুলের বলে উমর আকমলের হাতে ক্যাচ দেন সাবেক বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান আসে তার ব্যাটে। এরপর বাংলাদেশের ইনিংস টানার মতো সাহস আর কেউ দেখাতে পারেননি। মাঝে নাসিরের ২৩ রান ও শেষে মাশরাফির ছোট্ট ঝড় (১৭) শুধুমাত্র হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। যখন বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তুলতে সমর্থ হয়।
পাকিস্তানের উমর গুল তিন ওভারে ৩০ রান দিযে তিনটি উইকেট নেন। দুটি উইকেট পেয়েছেন সাঈদ আজমল। একটি করে উইকেট গেছে জুলফিকার বাবর ও শহিদ আফ্রিদির দখলে।

এরআগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে আহমেদ শেহজাদের ১১১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের উপর ভর করে ১৯০ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে ব্যাট করতে নামে কামরান আকমল ও আহমেদ শেহজাদ। এ জুটি ৪৩ রান করে। আব্দুর রাজ্জাকের বলে ৯ রানে আউট হয়ে সাজ ঘরে ফিরে যান তিনি। এরপর মোহাম্মদ হাফিজ ৮ রানে আউট হন। তিনিও রাজ্জাকের শিকারে পরিণত হন।

মাহমুদের বলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান ওমর আকমল। তিনটি উইকেট পতনের পর শেহজাদ ও শোয়েব মালিক পাকিস্তানের চাপ সামলে নেন।  এ জুটি ৮৩ রান করে। জুটি ভেঙ্গে আউট হয়ে যান সোয়েব মালিক। তিনি বলে ২৩ বলে ২৬ রান করেন। দলীয় ১৫৪ রানের মাথায় তিনি আউট হয়ে ফিরে যান।

এর পর ৯ বলে ২২ রান করে ফিরে যান আফ্রিদি। শেহজাদ ১১১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে  রাজ্জাক ৪ ওভার বল করে ২০ রানে ২ টি উইকেট নিয়েছে। এছাড়া মাহমুদুল্লাহ , সাকিব ও আল আমিন পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।

এইউ নয়ন