লাইনে দাঁড়িয়ে আইপিও আবেদনের দিন জুনে শেষ হচ্ছে

0
133
ipo application

ipo applicationআগামি এপ্রিল মাসে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে আইপিও আবেদনের নতুন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যাংকের পরিবর্তে ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টের (ডিপি)মাধ্যমে আইপিও’র আবেদন ও টাকা জমা দিতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

পাইলট প্রকল্প আকারে নতুন পদ্ধতি চালু হবে। পরীক্ষামূলক সময়ে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধন করে জুনে সব আইপিও’র ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে।

রোববার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি)অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি বিএসইসির আগামি কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আর সে বৈঠকেই এটি অনুমোদন পেতে পারে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন পদ্ধতি চালু হলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আবেদনপত্র ও টাকা জমা দিতে হবে না। একইভাবে অকৃতকার্য বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য (রিফান্ড) দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। বিনিয়োগকারীর টাকা তার হিসাবেই থেকে যাবে।

বিএসইসির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম। বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, তারা আইপিও’তে আবেদনের পদ্ধতি এবং আবেদন গ্রহণ করার জন্য ডিপিদের প্রাপ্য কমিশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এগুলো এখন সুপারিশ আকারে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। সুপারিশ গ্রহণ করা হবে কি-না, আর হলে কবে থেকে বিষয়টি কার্যকর হবে তা কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামি এপ্রিল মাস থেকে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তই সুপারিশ আকারে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ, আইপিও পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়ে গত ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তবে ডিপির কমিশন ইস্যুতে মতভেদ দেখা দেওয়ায় বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায়নি। ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টদের (ডিপি কমিশন চূড়ান্ত করার পর প্রস্তাবটিকে ফের কমিশন বৈঠকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি।

প্রস্তাব অনুসারে, আইপিও’র শেয়ারের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট ডিপিতে নিজ একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা জমা রাখতে হবে। এ টাকা ওই আইপিও’র জন্য ব্লক করে রাখা হবে। আইপিও’র লটারি না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা তুলতে তা ওই টাকায় অন্য কোনো শেয়ার কিনতে পারবেন না।

ডিপি তার সব গ্রাহকের আবেদনপত্র জমা দেবে। লটারীতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী শেয়ার বরাদ্দ পেলে তার হিসাব থেকে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করে দেবে ডিপি। অন্যদিকে বিনিয়োগকারী অকৃতকার্য হলে তার গচ্ছিত টাকার উপর থেকে ব্লক তুলে নেওয়া হবে। তখন বিনিয়োগকারী চাইলে ওই টাকায় নতুন কোনো আইপিও’র আবেদন করতে পারবেন, অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন অথবা চাইলে তা তুলেও নিতে পারবেন।

বর্তমানে কয়েকটি ব্যাংকের নির্ধারিত শাখার মাধ্যমে আইপিও’র আবেদনপত্র ও টাকা জমা নেওয়া হয়। অল্প সংখ্যক ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা নেওয়া হয় বলে প্রায় সময়ই দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে, কখনোবা বৃষ্টিতে ভিজে আবেদনপত্র জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের। আবার লটারীতে অকৃতকার্য হলে জমাকৃত অর্থ ফেরত পেতেও (রিফান্ড) ঝক্কি পো্হাতে হয়। নতুন প্রক্রিয়া চালু হলে এ দুর্ভোগ ও ঝক্কি-ঝামেলা থেকে রেহাই পাবেন বিনিয়োগকারীরা।