পেট্রোবাংলার অধীনস্থ ৪ প্রতিষ্ঠানের ৫ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

0
156
Petrobangla + ACC
পেট্রোবাংলা ও দুদকের লোগো

Petrobangla + ACCপেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর এবং তার অধীনস্থ ১৩ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি উদ্ঘাটনে চার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশোন উপ-পরিচালক মো. আহসান আলী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

রোববার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে নিশ্চিত করে দুদক সূত্র।

হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তারা হলেন- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামান, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) জিএম এসএম ফারুক, বিবিয়ানা গ্যাস প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদ খান, কর্ণফুলী গ্যাসফিল্ডের জিএম আহসান হাবিব এবং একই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আল মামুন।

দুদক সূত্র জানায়, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংস্থার অধীন আরও ১৩টি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে গত ৪ বছরে ব্যাপক সম্পদ অর্জন করেছেন।  এ নিয়োগ বাণিজ্যে শত কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ-দুর্নীতি ও যাবতীয় অনিয়মে অধ্যাপক হোসেন মনসুরের মূল সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির এমডি সানোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডের এমডি নুরুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মুজিবুর রহমান, জিটিসিএল এমডি আমিনুর রহমান, পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রশাসন রফিকুল ইসলাম, জিএম (প্রশাসন) আইয়ুব খান চৌধুরী ও সংসদীয় কমিটির এক সদস্যের পিএস পরিচয়দানকারী শাহিনুর রহমান প্রমুখ।

সূত্র আরও জানায়, পেট্রোবাংলার অধীন বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড, কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানির নিয়োগের ক্ষেত্রে খোদ কোম্পানির বোর্ডের অনুমোদন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কোম্পানির জিএম কমিটির নিয়োগ সংক্রান্ত সভায় ৩টি পদের জন্য ৩১টি শূন্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত এই পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৪৩ জন। নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা এবং নারী কোটা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার অপারেটর পদের মূল্যায়নে অভিজ্ঞতার জন্য কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি, যা এই পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নষ্ট করেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশই অযোগ্য, অদক্ষ হলেও ছিলেন অধ্যাপক হোসেন মনসুরের পছন্দের প্রার্থী।

এ দুটি গ্যাস ফিল্ডের পাশাপাশি আরও যে ১১ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দুর্নীতি করা হয়েছে সেগুলো হল,তিতাস গ্যাস, জালালাবাদ, বাখরাবাদ, জিটিসিএল, সিলেট গ্যাসফিল্ড, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং, মধ্যপাড়া গ্রানাইড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস, সুন্দরবন, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠিানের এমডিদের সহযোগীতায় লোক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অধ্যাপক হোসেন মনসুর ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। তিনি এ সব কোম্পানির কোনোটির বোর্ড মেম্বার, কোনোটির চেয়ারম্যান আবার কোনোটির পরিচালক হিসেবে বিভিন্ন সভার নামে বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আর তার এ কাজে সহযোগিতা এসব প্রতিষ্ঠানের এমডি ও কর্মকর্তারা।

সূত্র আরও জানায়, এর আগে খোদ সংসদীয় কমিটির তদন্তে জনবল নিয়োগে এ ধরনের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি কোম্পানির শীর্ষ পদেও রদবদল করা হয়েছে। কিন্তু লোক নিয়োগে অনিয়ম-দুনীতির মূল হোতা অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এইউ নয়ন