একটি ম্যাচ জিততে চায় বাংলাদেশ

0
57
Sakib al hasan
সাকিব আল হাসান: ফাইল ছবি

সাকিবআইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হয়ে প্রথম পর্ব পেরিয়ে এসে সুপার টেন পর্বের প্রথম দু’ম্যাচই হারলো বাংলাদেশ। তবে সামনের পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলার যে কোন একটি ম্যাচে জিততে চায় তারা। তবে দু’ প্রতিপক্ষই অনেক শক্ত মেনে তা অনেক কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল  হাসান।

শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানানোর পাশাপাশি প্রথম দুই ম্যাচে হারার পর দলের অবস্থান ও সামনের ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

সাকিব বলেন, ‘আমরা ২টি ম্যাচে ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। আত্মবিশ্বাস একটু কম। টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটের সৌন্দর্যই এটা। যে কোনো সময় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে। আমার মনে হয় না, কোনো দলই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে তারা জিতবে।’ তবে পরবর্তী ম্যাচগুলো ভালো খেলার প্রত্যয় রয়েছে সকল খেলোয়াড়দের মধ্যে।

বাকি দুটি ম্যাচে কি আশা করছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,‘গাণিতিকভাবে এখনো হয়তো আমাদের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে যাওয়া আমাদের জন্য ভীষন কঠিন হবে। বড় ব্যাপার হচ্ছে, এখন আর এই চাপটা থাকছে না। এটা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’

নিজের বোলিং নিয়ে তিনি বলেন,‘দলের যে কোনো পরিস্থিতিতেই বল করতে আমার সমস্যা নেই। অধিনায়ক যখনই বল দিক আমি খুশি। আর ব্যাটিংয়ে গত দুই ম্যাচে আমি ভালো করিনি। টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো কিছু হতে পারে। আমাকে কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখতে হবে, মৌলিক ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। আশা করি পরের ম্যাচে ব্যাটেও অবদান রাখতে পারবো।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে সাকিব বলেন,‘আমি মাত্র তিন বল খেলেছি দুই ম্যাচে। গত ম্যাচেরটা খুব দুর্ভাগ্যজনক ছিল। ব্যাটের কানায় লেগে প্যাড হয়ে বোল্ড হয়ে গিয়েছিলাম। আর আগের দিন (শুক্রবার) খুব ভালো বল ছিল। তারপরও কিছু জায়গা আছে যেখানে এখনও আমার উন্নতির সুযোগ আছে।’

টি-টোয়েন্টির ক্রিকেট নিয়ে তিনি বলেন,‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়ের ছন্দ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ছন্দ থাকলে ভালো হয় না, থাকলে আবার কঠিন হয়। ছন্দে ফেরাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আমাদের জন্য। যদিও আমারা শেষ দুটি ম্যাচে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। সবাই ছন্দ ফিরে পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। এটা সময়ের ব্যাপার, হয়তো আমরা রেজাল্টটা পাবো। হয়তো দেরি হয়ে গেছে কিন্তু এখনও দুটি ম্যাচ আছে।’

এছাড়া তিনি বলেন,‘যদি ভালোভাবে কামব্যাক করি। আমার তো মনে হয় না বেশি কেউ প্রত্যাশা করেছি যে আমরা সেমিফাইনালে খেলবো। আমরা চার ম্যাচে একটা বা দুইটা জিততে পারি। সেই সুযোগ আমাদের আছে এখনো। আমরা যদি একটা বা দুইটা ম্যাচ জিততে পারি টুর্নামেন্টটা ভালোই যাবে আমাদের জন্য। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল কোয়ালিফাই করা, সেটা করেছি। এখন একটা ম্যাচ যদি জিতি খুব ভালো, দুইটা ম্যাচ জিতলে আরো বেশি ভালো। বাকি দুইটা ম্যাচ আছে আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’

নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে সাকিব বলেন,‘আমি তো বেশি কিছু দিন ধরে তিনেই ব্যাট করছিলাম। বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক-কোচ এসে বললো এখন যখন মিডল অর্ডার সেভাবে রান পাচ্চে না আমি ও মুশফিক ভাই যদি চার-পাঁচে ব্যাট করি মিডল অর্ডার দৃঢ় হবে। এটাই প্ল্যান ছিল। নয়তো গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে দুই বছর ধরে আমি তিনেই ব্যাট করছিলাম। পরিকল্পনা সে কারণেই পরিবর্তন করা হয়েছিল। আরো দুটি ম্যাচ আছে, দেখা যাক যদি ঐ রকম কোনো পরিস্থিতি আসে আমি তো অবশ্যই ভালো করার চেষ্টা করবো।’

বাংলাদেশ দলের জন্য এটা সবচেয়ে বেশি খারাপ সময় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘এটা খুব খারাপ সময় একটা বলবো না। ২০১১ সালে আমাদের একটি বড় দলকে হারানোর লক্ষ্য ছিল, সেটা আমরা করেছিলাম। এখানেও আমাদের লক্ষ্য ছিল কোয়ালিফাই করা, সেটা করেছি। এখন আরেকটা লক্ষ্য আছে অন্তত একটা ম্যাচ যদি জিততে পারি তাহলে সব মিলিয়ে এটা হবে ওকে টুর্নামেন্ট।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে সাকিব বলেন,‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাবনা কঠিন। ওদের বোলিং যদি সেরা নাও হয় দুইয়ের মধ্যেই থাকবে। ওদের স্পিন অ্যাটাকও খুব ভালো। ওদের বিপক্ষে রান পাওয়া কঠিন হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বিবেচনায় ওদের ব্যাটিংও খারাপ না। অবশ্যই কঠিন লড়াই হওয়ার কথা। আমরা যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি-গত এশিয়া কাপে এবং এই এশিয়া কাপসহ ওদের বিপক্ষে শেষ কয়েকটি ম্যাচে কিন্তু আমরা লড়াই করেছি। আমরা ঐ দিকেই ফোকাস করবো।’

টানা হারের কারণে দলের সবাই হতাশ কিনা জানতে চাইলে সাকিব,‘ভেতরে ভেতরে সবাই খুবই হতাশ। যারা ড্রেসিংরুমে থাকে বা দেখে তারা সবাই বলতে পারবে। বাইরে থেকে বোঝাটা মুশকিল। সবাই অবশ্যই হতাশ, সবাই চায় দলের জন্য পারফর্ম করতে। যে পারফর্ম করবে তার জন্যও ভালো দলের জন্যও ভালো। স্বাভাবিকভাবেই কেউ চায় না খারাপ করতে।’