সুব্রত রায়ের জামিনের অর্থ জোগাড় করতে চাঁদা তোলার উদ্যোগ

0
89
SubrataBail

SubrataBailভারতে সাহারা গ্রুপের কর্ণধার সুব্রত রায়ের জামিনের টাকা জোগাড় করতে উঠেপড়ে লেগেছে কর্মীরা। মালিককে বাঁচাতে  সাহারাকর্মীদের একাংশ  শুক্রবার চাঁদা তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন৷ খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সুব্রত রায়ের জামিনের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এই মুহূর্তে সাহারার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে বৃহস্পতিবার  সর্বোচ্চ আদালতে  শিল্পগোষ্ঠীর আইনজীবীরা জানিয়ে দেন। এরপরই মালিককে মুক্ত করার জন্য তহবিল জোগাড় করতে কর্মীরা নানা উপায় বের করার চেষ্টা করেন। এই অর্থ জোগাড় করতে অবশেষে তারা চাঁদা তোলার প্রস্তাব দেন।

কর্মীরা জানান, একেকজন কর্মী বা শুভাকাঙ্ক্ষী যদি কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দেন, তা হলে জামিনের অর্ধেক অর্থাৎ কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি তোলা সম্ভব। প্রস্তাব অনুযায়ী, তহবিলে যাঁরা টাকা দেবেন, তাঁদের প্রত্যেককে সাহারার শাখা সংস্থা সাহারায়ন  ই-মাল্টিপারপাস সোসাইটির শেয়ার দেওয়া হবে। শুক্রবার এই আর্জি জানিয়ে গোষ্ঠীর সমস্ত কর্মীর কাছে  একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সেখানে সাহারা ইন্ডিয়া পরিবারে সকল কর্মীর ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে এক লাখ, দুই লাখ বা তিন লাখ টাকা-যার যা সামর্থ্য চাঁদা দিতে আবেদন জানানো হয়েছে৷  তাতে সই রয়েছে ওই সোসাইটির পরিচালক  ও সাহারা গোষ্ঠীর বিভিন্ন সহযোগীদের। তবে সাহারার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা  অবশ্য বলেছেন, ‘সুব্রত রায় বা সাহারা-কর্তৃপক্ষ এমন কোনো আর্জি জানায়নি৷ মালিকের প্রতি কর্মীদের আবেগের পরিচয় এটা৷ সাহারাশ্রী এই সংস্থাকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তুলেছেন৷ তাই পরিবারের মাথা যখন সঙ্কটে পড়েছেন, কর্মীরা তাঁর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন৷ এরকম বহু চিঠি সারা দেশ থেকে সাহারাশ্রীর জন্য এসেছে৷ সংশ্লিষ্ট মহল এই বাঁধভাঙা আবেগকে সম্মান জানাবে আশা করি৷’

প্রসঙ্গত, সাহারা ইন্ডিয়া পরিবারে ১১ লাখ কর্মী ও ফিল্ড ওয়ার্কার রয়েছে৷ সকলে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দিলে ১১ হাজার কোটি টাকা উঠতে পারে৷ যা শর্ত সাপেক্ষ জামিনের ১০ হাজার কোটি টাকার চেয়েও বেশি৷

প্রায় দুই বছর আগে পুঁজিবাজার থেকে অবৈধভাবে ২৪ হাজার কোটি রুপি মূলধন সংগ্রহ করার অভিযোগে সাহারার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড (সেবি)। শুনানি শেষে ভারতীয় আদালত সেবির অভিযোগ সমর্থন করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় সাহারা কর্তৃপক্ষকে।

কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরেও বিনিয়োগকারীদের ১৯ হাজার কোটি রুপি ফেরত না দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সুব্রত রায়সহ সাহারা গ্রুপের আরও চার পরিচালককে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট।

মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজিরা প্রদান থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান সুব্রত রায়ের আইনজীবী। কিন্তু সে আবেদন খারিজ করে হাজিরা প্রদানের আদেশ বহাল রাখে আদালত।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে লখনৌ পুলিশের কাছে সুব্রত আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৪ মার্চ থেকে তিহার জেলে অবস্থান করছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাহারার পক্ষ থেকে সুব্রত রায়ের জামিনের একাধিক আবেদন পেশ করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। অবশেষে প্রায় একমাস হাজতবাসের পর আদালত সাহারা প্রধানের জামিনে সম্মতি প্রদান করে।কিন্তু অর্থের অভাবে এখনও সুব্রত রায়ের জামিন মেলেনি।

এদিকে, সাহারা গ্রুপ এর আগে দাবি করেছে যে, তাদের সংস্থার নিট সম্পদ ৬৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। মোট সম্পত্তির মূল্য ছাড়িয়ে গিয়েছে দেড় লাখ কোটি রুপী।  সংস্থার হাতে থাকা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রে নিজস্ব টাউনশিপ অ্যাম্বি ভ্যালি সিটি, ভারতের ফর্মূলা ওয়ান দল ফোর্স ইন্ডিয়া, লন্ডনের গ্রসভেনর হাউজ, নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেল ইত্যাদি।

এস/এআর