ডিপির কমিশন ইস্যুতে আইপিও আবেদন পদ্ধতি সংস্কারে বিলম্ব

0
121
ipo application
আইপিও'র আবেদন জমা দিতে ব্যাংকের সামনে বিনিয়োগকারীদের লাইন-ফাইল ফটো

ipo applicationসব কিছু ঠিকঠাক থাকার পরও ডিপির কমিশন ইস্যুতে মতভেদের কারণে অনুমোদন পায় নি আইপিও’র শেয়ারে আবেদন করার পদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)কমিশন বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পাওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও অনুমোদন পায় নি। ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টদের (ডিপি)কমিশন চূড়ান্ত করার পর প্রস্তাবটিকে ফের কমিশন বৈঠকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পদ্ধতিটি সংস্কার হলে ব্যাংকের পরিবর্তে ডিপির মাধ্যমে মাধ্যমে আইপিও’র আবেদন ও জমা জমা নেওয়া হবে। বিএসইসি সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামি এক দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি অনুমোদন পাবে। তার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ডিপিদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশনের হার চূড়ান্ত করবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে ব্যাংকারস টু দ্যা ইস্যুকে যে হারে কমিশন দেওয়া হয়, ডিপিদের জন্য সে হারই চূড়ান্ত করা হতে পারে।

উল্লেখ, বর্তমানে আইপিও আবেদন গ্রহণকারী ব্যাংকগুলো জমাকৃত অর্থের উপর দশমিক ১ শতাংশ হারে কমিশন পায়। প্রতি একশ টাকায় পায় ১০ পয়সা। শেয়ারের একটি লটের জন্য যদি ৫ হাজার টাকা জমা পড়ে তাহলে সেখান থেকে ব্যাংকের প্রাপ্য ৫ টাকা।

অনুমোদন পেলে পদ্ধতিটি প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের মত সীমিত পরিসরে চালু হবে। এতে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধন করে সব আইপিও’র ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে।

আগামি এপ্রিল মাসে যদি কোনো আইপিও বিএসইসির অনুমোদন পায়, তাহলে সেটি থেকেই নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন শুরু হবে।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইপিও’র শেয়ারের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট ডিপিতে নিজ একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা জমা রাখতে হবে। এ টাকা ওই আইপিও’র জন্য ব্লক করে রাখা হবে। আইপিও’র লটারি না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা তুলতে তা ওই টাকায় অন্য কোনো শেয়ার কিনতে পারবেন না।

ডিপি তার সব গ্রাহকের আবেদনপত্র জমা দেবে। লটারীতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী শেয়ার বরাদ্দ পেলে তার হিসাব থেকে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করে দেবে ডিপি। অন্যদিকে বিনিয়োগকারী অকৃতকার্য হলে তার গচ্ছিত টাকার উপর থেকে ব্লক তুলে নেওয়া হবে। তখন বিনিয়োগকারী চাইলে ওই টাকায় নতুন কোনো আইপিও’র আবেদন করতে পারবেন, অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন অথবা চাইলে তা তুলেও নিতে পারবেন।

বর্তমানে কয়েকটি  ব্যাংকের নির্ধারিত শাখার মাধ্যমে আইপিও’র আবেদনপত্র ও টাকা জমা নেওয়া হয়। অল্প সংখ্যক ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা নেওয়া হয় বলে প্রায় সময়ই দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে, কখনোবা বৃষ্টিতে ভিজে আবেদনপত্র জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের। আবার লটারীতে অকৃতকার্য হলে জমাকৃত অর্থ ফেরত পেতেও (রিফান্ড) ঝক্কি পো্হাতে হয়। নতুন প্রক্রিয়া চালু হলে এ দুর্ভোগ ও ঝক্কি-ঝামেলা থেকে রেহাই পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির কমিশনার মো: আরিফ খান বলেন,  গত বছরের শেষভাগে আমরা আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যাগ নিই। যাতে বিনিয়োগকারীদের দুর্ভোগ কমে আসে। তাছাড়া বর্তমান পদ্ধতিতে প্রক্রিয়া শেষ করতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। আইপিওতে অনেক টাকা আটকে থাকে বলে অনেক সময় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নতুন পদ্ধতিতে এর অবসান হবে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক আইপিও অনুমোদন দেওয়া যাবে, যা বাজার গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে।