অবশেষে খুললো সেই ‘বিলাসবহুল কারাগার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
53

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২০০র বেশি প্রিন্স, মন্ত্রী ও ধনী ব্যবসায়ীদের বিলাসবহুল কারাগার হিসেবে পরিচিত রিটজ কার্লটন খুলে দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত আলোচিত পাঁচ তারকা হোটেল রিটজ কার্লটনে গত নভেম্বরে ওই প্রভাবশালীবন্দীদের আনা হয়। এরপর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে কোনো অতিথি নেওয়া হয়নি।

হোটেলটির কর্মীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অতিথিদের জন্য হোটেলটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, রিটজ-কার্লটন হোটেলটিতে এখনো ৫৬ জন বন্দি আছেন। যদিও দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হোটেলের বাকি বন্দিদের কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Ritz-Carlton.jpg
পাঁচতারকা হোটেল রিটজ কার্লটন। এই হোটেলে আটকে ছিলেন সৌদি রাজপুত্র।

জানুয়ারির শেষ দিকে প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, আটক প্রিন্সসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে আর্থিক দণ্ডের মাধ্যমে সমঝোতা করেছে সৌদি সরকার। এ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যেই ১০ হাজার কোটি ডলার বা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে সরকার।

যদিও সরকারের হিসাবে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের গোপন বা অফ শোর হিসাবের অর্থের পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত নভেম্বরে দেশটিতে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালু হবার পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাবশালী বন্দিদের রাখার জন্য রিটজ কার্লটনসহ বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেল ব্যবহৃত হতো। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির দুর্নীতি দমন কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু হয়।

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান

এরপর একে একে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হন। তাদেরকে এসব বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত বিমানগুলো আটকে রাখা হয়। তাদের সম্পত্তিও জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল এবং সৌদি মিডিয়া মুঘল ওয়ালিদ আল-ইব্রাহিম উল্লেখযোগ্য। এদের দুজনকেই গতমাসে বিপুল অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুর্নীতি দমন অভিযানের মাধ্যমে কার্যত নিজের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছেন বলে সমালোচনা রয়েছে।

অর্থসূচক/এসবিটি