ইউনিয়ন ক্যাপিটালে গোপন পাসওয়ার্ড অনেকের হাতে

0
65
ইউনিয়ন ক্যাপিটাল union capital dividend declaration
ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লোগো

ইউনিয়ন ক্যাপিটাল union capital dividend declarationইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ এখনও অগোছালো। চলছে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করছে না। অন্যদিকে গোপনীয় সিআইবি’র পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন একাধিক কর্মকর্তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে, রুবাবা নাজনীন নামে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অপসারণের অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে। তারাই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের প্রমাণ পান। আর এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন তারা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া ব্যাখ্যায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে সব গুছিয়ে ফেলতে পারবে। এ জন্য একজন এভিপি-কে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সিআইবি ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড শেয়ারিং করার প্রমাণ পেয়েছে এ তদন্ত দল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া এ পাসওয়ার্ড শেয়ারিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

উল্লেখ, সিআইবি বা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ বিভাগ। এ বিভাগ দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। কোনো গ্রাহককে ঋণ দিতে হলে তার ঋণ সংক্রান্ত মর্যাদা জানতে হয়। কারণ কোনো ঋণ-খেলাপী ব্যক্তিকে নতুন ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সিআইবি’র পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়, যাতে তিনি ঋণ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্তমর্যাদা জানতে পারেন। বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল ও গোপনীয়। তাই একজন কর্মকর্তার নামে ইস্যু করা পাসওয়ার্ড অন্যের কাছে হস্তান্তর বা শেয়ারিং নিষিদ্ধ। এ নিষিদ্ধ কাজটিই হয়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটালে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি থেকে ইভিপি ও হেড অব বিজনেস আব্দুল মমিন খানের জন্য ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ডটি রুবাবা নাজনীনকে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। এ ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ডটি অন্য  একজনকে ব্যবহারের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করলেও তারা এ সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের কাছে দিতে পারেনি। অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি বিধিবহির্ভূতভাবে ওই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তড়িঘড়ি করে রুবাবা নাজনীন নূরকে অপসারণ করার সিদ্ধান্তটি ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নসাপেক্ষ বলে এ তদন্ত দল মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রুবাবা নাজনীনকে অপসারণ করার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করে। পরবর্তীতে তার দফাওয়ারি জবাবের ওপর আলোচনা না করে কোন তদন্ত ছাড়া এবং শুনানী গ্রহণ ব্যতিরেকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এটি অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে এ তদন্ত দল মন্তব্য করেছে।

আর এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থপনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও এক লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে সিআইবি গোপন পাসওয়ার্ড শেয়ারিংয়ের নির্দেশনা প্রদান, গাড়ির মালিকানা স্বত্ব হস্তান্তর ও মহিলা কর্মকর্তাদের প্রতি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বৈষম্যমূলক ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কোন প্রমাণ পায় নি এ তদন্ত দলের সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের  ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যায় নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে যথেষ্ট অব্যবস্থাপনা ছিল। সিআইবি পাসওয়ার্ডসহ অনেক সমস্যাই আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সময়ে সৃষ্ট। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আগের চেয়ে অনেক গুছিয়ে এনেছেন প্রতিষ্ঠানটিকে। তারা মনে করেন আগামি তিন মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এসএই/