খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ, হাজিরা জমা

অর্থসূচক ডেস্ক

0
87
আইনজীবীদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও মীর নাসের আদালতে প্রবেশ করেছেন। তারা আশা করছেন আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন।

এদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলও আদালতে প্রবেশ করেছেন। সকাল ১০টা ১৮ মিনিটের দিকে বিচারপতি ড. আখতারুজ্জামান আদালতে প্রবেশ করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় উপলক্ষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরা জমা দিয়েছেন তার আইনজীবীরা।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এ হাজিরা জমা দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, এ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার সুযোগই নেই। এরপরও আদালত যদি এ মামলায় সাজার রায় ঘোষণা করেন, তবে আদালত যে নিরপেক্ষ নন তা প্রমাণ হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে কারাগার থেকে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

আর তারেক রহমান (লন্ডনে), সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক।

একই আদালতে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় এবং তা শেষ হয় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি। মোট ১০ কার্যদিবসে ৫ আইনজীবী আদালতে তাদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। এতে তারা খালেদা জিয়ার খালাস প্রার্থনা করেন।

গত ২০ ডিসেম্বর আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আদালতে বলেন, এ মামলার যত ডকুমেন্ট এসেছে তার সবই ‘ওভাররাইটিং-ঘষামাজা’। গত২৭ ডিসেম্বর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়াকে চোর বানানোই এ মামলার উদ্দেশ্য।

আইনজীবীদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি।

এদিকে মামলায় শুধু নিজের খালাসই দাবি করছেন খালেদা জিয়া। বরং জাল-জালিয়াতি করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নথিপত্র সৃষ্টি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে এ আবেদন করেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া অপর সাক্ষীরা হলেন- পিডব্লিউ-০৯ মাজেদ আলী, পিডব্লিউ-১৪ সৈয়দ জগলুল পাশা, পিডব্লিউ-১৯ মোস্তফা কামাল মজুমদার, পিডব্লিউ-২০ তৌহিদুর রহমান খান ও পিডব্লিউ-২১ আবদুল বারেক ভূঁইয়া।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন– মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অর্থসূচক/এসবিটি