উপজেলা নির্বাচনে খুনিদের ছড়াছড়ি!

0
68
Upazila_Election

Sujan_Pressউপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের প্রার্থীদের মধ্যেও হত্যা মামলার আসামির ছড়াছড়ি। এ পর্বের নির্বাচনে ৩৫৪ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে ২১ জনের (৫.৯৩%) বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যার অভিযোগে ৩০২ ধারায় মামলা রয়েছে। এছাড়া অতীতে আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুয়ায়ী সবমিলিয়ে পঞ্চম ধাপে ৫৪ জন হত্যার অভিযুক্ত আসামি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শুক্রবার বেলা ১১ টায় রাজধানী পল্টনের মুক্তি ভবনের প্রগতি কনফারেন্স সেন্টারে পঞ্চম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এসব  তথ্য তুলে ধরে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহিত তথ্য বিশ্লেষণ করে সুজনের সহকারী সমন্বয়কারী সানজিদা হক বিপাশা সন্নিবেশিত তথ্যের ভিত্তিতে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৩৫৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে, অতীতে মামলা ছিল ১২২ জনের বিরুদ্ধে। অতীত ও বর্তমানে উভয় সময়ে মামলা ছিল বা রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৪৮ জন।

এছাড়া ৩৫৪ জনের মধ্যে ৬০ জন ঋণগ্রহীতা যার মধ্যে কোটি টাকার ওপর ঋণগ্রহণকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১৩ জন। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার ওপর ঋণ রয়েছে ৮ জন প্রার্থীর। এদের মধ্যে ১১৬ জন প্রার্থী (৩২.৭৬ শতাংশ) আয়কর প্রদান করেন। হলফনামায় ১২ জন পেশার কথা উল্লেখও করেননি।

তাছাড়া, ৩৫৪ প্রার্থীর মধ্যে বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোয়নি ৭৭ জন। তথ্যের বিশ্লেষণে সুজন লক্ষ্য করেছে, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের আধিক্য রয়েছে।

এসময় বলা হয়, অনেক প্রার্থীই সম্পদের মূল্য উল্লেখ না করায় আর্থিক মূল্যে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ না করার কারণে অনেক প্রার্থীর সঠিক সম্পদের পরিমাণ অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

এসময় সুজন সম্পাদক বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন দাবি করছে তাদের হলফনামার তথ্যে ভুল ছিল। নির্বাচনী আইনে ১৮১ ধারা অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর তথ্যে মিথ্যা বা ভুল থাকলে তার সংসদ প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাবে।

একারণে নির্বাচন কমিশনকে হলফ নামায় প্রকাশিত তথ্য যাচাই-বাছাই ও নির্ভুল করে  প্রকাশের দাবি জানায় সুজন। তারা বলেন,দেশের রাজনীতি ও প্রতিনিধিত্ব পরিচ্ছন্ন করতে হলে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে সুজন বলেন, বর্তমানের সহিংসতা রোধে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম চালু করলে এ সহিংসতা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা। কিন্তু এর আগে সুজন বলেছিল স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে হলে দলবাজি বেড়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান কারচুপি ও সহিংসতায় শঙ্কা প্রকাশ করে সুজন সম্পাদক বলেন, চলমান সহিংসতার কারণে দেশে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিতর্ক ও সহিংসতা মুক্ত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করার জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এমআর