দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
111

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে এবার রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিনিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি)। গতকাল শনিবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম।

শনিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপিরা জড়ো হতে থাকেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।

শহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ১৪ হাজার সিএইচসিপি’র চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সেসব আবেদনে কাজ না হওয়ায় আজ আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

শহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশনে যাবেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আমরা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কাজটি করে থাকি। আমরা নিরলসভাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন করবেন।

এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রামীণ পর্যায়ে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধের ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাতে দাবি আদায় না হওয়ায় এবারে অবস্থান ধর্মঘটে নামলেন প্রায় হাজারখানেক কর্মী।

এর আগেও, চাকরি জাতীয়করণের জন্য গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে রিট (রিট নম্বর ১৯৫০/২০১৭) দাখিল করেন কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মরত সিএইচসিপিরা। রিট শুনানির পর ২২ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে সিএইচসিপিদের চাকরি জাতীয়করণের আদেশ দেওয়া হয়। ওই রায়ের কপি বের হয় ২২ সেপ্টেম্বর।

রায়ের কপি পেয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিএইচসিপিদের চাকরি জাতীয়করণ ইস্যুতে কোনও উদ্যোগ না নিলে সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা রাজপথে আন্দোলন শুরু করেন।

উল্লেখ, এর আগে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষকরা, চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরাও চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও অনশন করেছেন। এর মধ্যে নন-এমপিও ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। তবে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর