সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবছে বিএসইসি

আইপিও’র টাকায় ঋণ পরিশোধ

0
82

Ipo-604x330প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কোন কোন কোম্পানি এ অর্থ চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতেও ব্যয় করছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে ব্যয় হচ্ছে খুবই ছোট্ট অংশ। এমন প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা আইপিও’র একটি টাকাও ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় করেনি। এমনকি বিএমআরই’তেও (আধুনিকায়ন) যায় নি তারা।

আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে কোনো শর্ত না থাকায় শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থানে কাঙ্খিত অবদান রাখতে পারছে না পুঁজিবাজার। এমন অবস্থায় আইপিও’র টাকায় ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

জানা গেছে, আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করার শর্ত আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া আইপিও’র অর্থ চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শুধু তাই নয়, প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা খাতের বাইরে অন্য কোনো খাতে অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) একজন কর্মকর্তা বলেন, পুঁজিবাজার, অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, বর্তমানে আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে ঋণ পরিশোধে কোনো বিধিনিষেধ নেই। কিছু কিছু উদ্যোক্তা এই সুযোগের অপব্যবহার করছেন।

তিনি আরও বলেন, ঋণ পরিশোধ করলেও বিনিয়োগকারীদের একরকম লাভ হয়। ঋণের উচ্চ সুদ গুণতে হয় না বলে কোম্পানির মুনাফা বাড়ে। কিন্তু শিল্পের সম্প্রসারণ না হলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ে না। তাই কিছু শর্ত আরোপের মাধ্যমে পুরো বিষয়টিতে এক ধরনের ভারসাম্য আনতে চায় বিএসইসি।

সম্প্রতি বাজারে আসা প্রায় সব কোম্পানিই আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পুরোটা বা বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে। এদের মধ্যে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল একটি টাকাও প্রকল্প সম্প্রসারণে ব্যয় করেনি। অন্যদিকে অ্যাপোলো ইস্পাত মাত্র ২৮ শতাংশ অর্থ নতুন প্রকল্পের জন্য ব্যয় করেছে। বাকীদের চিত্রও কম-বেশি প্রায় একইরকম।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল আইপিওতে সংগ্রহ করে ৮৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৭৩ কোটি টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ আইপিও’র অর্থের ৮৭ ভাগ যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে। প্রতিষ্ঠানটি তার চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে আইপিওর ৬ কোটি টাকা ব্যবহার করবে। আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি পয়সাও ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে না।

অ্যাপোলো ইস্পাত ১২ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২২ টাকা দরে শেয়ার ছেড়ে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এ থেকে ১৫৩ কোটি টাকাই ঋণ পরিশোধে ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি। আর নতুন প্রকল্পের জন্য ব্যয় করবে ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আইপিওর উত্তোলিত অর্থের মাত্র ২৮ শতাংশ ব্যয় হবে শিল্প সম্প্রসারণে। অন্যদিকে প্রায় ৭০ ভাগ অর্থ যাবে ঋণ পরিশোধে।