‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দুই তৃতীয়াংশ বেদখলে রয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
105

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের ২০ বিঘা দেবোত্তর ভূমির মধ্যে প্রায় ১৪ বিঘাই বেদখলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বস্তি ও গ্যারেজ মালিকেরা দখল করে আছে মন্দিরের বেশিরভাগ অংশ।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচীতে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি জয়ন্ত সেন দিপু বলেন, বিগত পাঁচ দশক ধরে সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা আর উদাসীনতার কারণে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ভূমিই শুধু নয়, এর কাঠামোগত অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। মন্দিরের সরু প্রবেশ পথের পশ্চিম পাশে দেবোত্তর ভূমি জবরদখল করে অবৈধ বস্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে শুধুমাত্র মন্দিরের পবিত্রতা নষ্টের পাশাপাশি ভক্ত, পর্যটক, এমনকি সরকার, রাষ্ট্র ও বিদেশি দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শত শত বছর পূর্বে ভাওয়াল রাজা শ্রী রাজেন্দ্র নারায়ণ রায়বাহাদুরের আমলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জন্য ২০ বিঘা ভূমি সরকারের ২১৬৮ নং খতিয়ানভূক্ত মহালে দেবোত্তর ভূমি হিসাবে রেকর্ড ভূক্ত হয়। পরবর্তীতে রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণের ছেলের কাছ থেকে পূজা, সাংবাৎসরিক অন্যান্য পূজা ও সম্পত্তি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার নির্বাহীকল্পে এক বেম্যাদি ভোগার্থ দলিল সম্পাদিত হয়। দলিলে উলেখ হয় সেবায়েত বা তার উত্তরাধিকার শুধুমাত্র ভোগ দখলের অধিকার ব্যতীত কোন রূপ বেচা-বিক্রি করতে পারবে না।

জয়ন্ত সেন দিপু বলেন, দখলমুক্ত করার জন্য কয়েক দশক ধরে মোকদ্দমা চালানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। আর হয়নি বলেই আজ ঢাকেশ্বরী মন্দির হিন্দু সম্প্রদায় তথা সমগ্র জাতির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ৪৭ বছর পরেও জাতীয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের এ অবস্থা করো কাছেই আজ কাম্য নয়। ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু মন্দির নয় এটি একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

মানববন্ধনের মাধ্যমে সংগঠনটি ৫টি দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

এছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রটারী তাপস কুমার, হিন্দু বৈদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত, শ্যামল কুমার রায় প্রমুখ।

অর্থসূচক/জেডএ/এসএম