‘অনাকাঙ্খিত দ্রব্য প্রবেশে কাস্টমসকে সর্তক থাকতে হবে’

অর্থসূচক ডেস্ক

0
54

মাদকসহ অনাকাঙ্খিত দ্রব্য যাতে দেশে আসতে না পারে সেজন্য কাস্টমসকে সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

মুহিত বলেন, আমি যখন ১৯৮২ সালে মন্ত্রী হই তখন কাস্টমস থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হতো। সবচেয়ে কম আদায় হতো আয়কর থেকে, মাত্র ১০ শতাংশ। এখন মূসক এবং আয়করের মধ্যে কম্পিটিশন আছে কে সবচেয়ে বেশি আয় করতে পারে।

তিনি বলেন, কাস্টমসের আয় অনেক কমে গেছে। ভবিষ্যতে আরো কমবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি সব দেশে উন্মুক্ত অর্থনীতি থাকবে। নির্ধিধায় মালপত্র আনা নেওয়া করবে। তবে সেখানে একটা সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে যাতে কাস্টমসের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ঠিক নয় অনাকাঙ্খিত দ্রব্য যাতে দেশে আসতে না পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্য্যত যদি আমরা চিন্তা করি আমরা দেখতে পাবো মূসক এবং আয়কর অনবরত বাড়বে। অন্যদিকে; কাস্টমস থেকে রাজস্ব অনবরত সংকীর্ণ হতে থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে সত্যিকার একটি ধারণা এসেছে উন্নয়নের জন্য ব্যবসার প্রসার দরকার। এজন্য ২০১৩ সালে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট হয়েছে। দেখা গেছে এ ধরনের এগ্রিমেন্টের ফলে রাজস্ব আদায় বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে অর্থপাচার হওয়ার কারণে এএমএল, এটিএম, এন্ট্রি টেরোরিং ফিন্যান্সিং ইত্যাদি আরো নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান করতে হচ্ছে।

মুহিত বলেন, আমার মনে হয় যে আমরা ভবিষ্যতের একটা চিন্তা করতে পারি খুব অদূরে নয়। আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে কাস্টমসের প্রধান কর্তব্য হবে অনাকাঙ্খিত দ্রব্যাদি যাতে দেশে আসতে না পারে সে ব্যবস্থা করা। এটা হবে তাদের প্রধান কাজ। রাজস্ব আদায় হবে তাদের গৌণ কাজ।

কাস্টমস দিবস সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব দিবস পালন করা মানে জনগণকে সচেতন করা। রাজস্ব আদায় যাতে বাড়তে পারে। আমরা এর সত্যিকার ফসলও পাচ্ছি। রাজস্ব বাড়ছে। সে অনুযায়ী আমাদের বাজেটেরও আয়তন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও তা চলতে থাকবে। কারণ আমাদের বাজেট আয়ের তুলনায় খুব কম। মাত্র ১০ থেকে ১১%। অন্যান্য দেশে এ আয় ৩০ থেকে ৩০%। আমরা সেখানে হয়ত নাও যেতে পারি। কিন্তু আমাদের একটা টার্গেট রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে মাত্র ১৪ লাখ ব্যক্তি আয়কর দিত। এখন তা ৩১ লাখে পৌঁছে গেছে। সেখানে আমরা যে খুব বেশি কাজ করেছি তা নয়, নতুন উদ্যোক্তা যারা বিশেষ যুব সম্প্রদায় ৪০ এর নিচে যাদের বয়স তাদের প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে। আমাদের দেশের জন্য এটা অত্যন্ত ভালো, এ নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, এফবিসিসিআই এর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে ৬ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও ১৪ কাস্টমস কর্মকর্তাকে ডব্লিউসিও সার্টিফিকেট অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অর্থসূচক/রহমত