২০১৯-২১ সালকে অবকাঠামো বিনিয়োগ বছর ঘোষণার প্রস্তাব ডিসিসিআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
68

দেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকে তরান্বিত করার জন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কারকে অধিক গুরুত্ব দিতে ২০১৯-২১ সালকে অবকাঠামো বছর হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

আজ বুধবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে বিডা-র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম-এর সঙ্গে সাক্ষাতকালে ডিসিসিআই এর সভাপতি আবুল কাসেম খান এ প্রস্তাব করেন।

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পরিমান ২৩.১% থেকে ২৯% উন্নীত করার পাশাপাশি ডুইং বিজনেস র‌্যাকিং-এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শুল্ক কাঠামোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দক্ষ জনসম্পদ তৈরির জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন আবুল কাসেম খান।

বর্তমানে বাংলাদেশে জিডিপি’র ২.৮৭% অবকাঠামো খাতে ব্যয় করে এবং এটাকে জিডিপি’র ৫% উন্নীতকরণ ও আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র অবকাঠামো খাতে ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিতকরনের প্রস্তাব করেন চেম্বার সভাপতি। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বিডা প্রস্তাবিত ‘ওয়ান-স্টপ’ সার্ভিস দ্রুত চালুকরণ এবং বেজা ও বেপজা পরিচালিত সেবা সমূহের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বানও জানান তিনি।

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষনে সম্ভাবনাময় খাত সমূহ চিহ্নিতকরনের জন্য এবং সরকারি ও বেসরকারী খাতের সমন্বয়ে ‘এফডিআই প্রোমশন টাস্ক ফোর্স’ গঠনের জন্য তিনি বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক আর্থিক খাত এখনও কাঙ্খিত মাত্রায় সাফল্য অর্জন করতে পারেনি এবং এ খাতের নীতিমালা সংস্কার ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রয়োজন। তিনি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, প্রাইভেট ইক্যুয়িটি এবং এঞ্জেল ইনভেস্টমেন্টে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম ৫ বছর কর মুক্ত সুবিধা প্রদানের বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাপনায় ও নীতিমালায় সকল উদ্যোক্তাদের জন্য সমতা থাকা একান্ত জরুরী।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতায় প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয় এবং এ ক্ষেত্রে আমরা যদি আমাদের দেশের নাগরিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারি তাহলে সহজেই এ পরিমাণ টাকা দেশের অভ্যন্তরে রাখা সম্ভব। বিডা চেয়ারম্যান সরকারি ও বেসরকারী খাতের মধ্যকার সমন্বয় আরও বৃদ্ধি এবং গবেষণা কাজে আরও বেশি মনোনিবেশ করার উপর জোরা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, এফসিএ, সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক ইঞ্জি: আকবর হাকিম, আন্দালিব হাসান, ইঞ্জি: মো. আল আমিন, এস এম জিল্লুর রহমান এবং ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর