জিএসপি ফিরে পাওয়ার সকল শর্ত পূরণ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

0
84
ফাইল ছবি।

tofayelদেশে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক শিল্পের উপযুক্ত ভবন, নিরাপদ বিদ্যুৎ ও অগ্নি সংযোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক সভায় শেষে সংবাদিকদের সামনে এমন দাবি করেন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনসে আগুনে ১১২ জনের মৃত্যু এবং গত বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১১৩২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার (জিএসপি) স্থগিত করে দেশটি। এই সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু শর্তসহ একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে ওবামা সরকার। আর এই শর্তগুলো পূরণের জন্য দেশটির সরকার বাংলাদেশকে আগামি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেধে দেয়।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সিনেট এক শুনানিতে জানায় জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশকে আরো কাজ করতে হবে।

সচিবালয়ের আজকের বৈঠক শেষে মন্ত্রী তিনি বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে যে  শর্ত আরোপ করা হয়েছে বাংলাদেশ তা  প্রায় পূরণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এদেশের বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে জিএসপি সুবিধা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আইএলও, অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স  সবাই বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এখন কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই। মালিক-শ্রমিক আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারো কোনো অভিযোগ নেই। তারা এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন ও আন্তরিক।

এছাড়া পোশাক কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি ও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সিদ্ধান্ত নিয়েছে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোটা ফ্রি ও ডিউটি ফ্রি সুবিধা প্রদান করবে।  তবে অট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন, জাপানসহ অনেক দেশ এ সুবিধা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের তা দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, একক দেশ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোষাকের সবচেয়ে বড় বাজার। এ সুবিধা প্রদান করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও মনে করেন তিনি।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, বুয়েট এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. ইসতিয়াক আহমেদ, আইএলও’র শ্রীনিভাস রেড্ডি, অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস, অ্যালায়েন্সের পরিচালক রবিন মেসবাহ, বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধায় বাংলাদেশ যে পণ্য বিক্রি করত, তা দেশের ৫০০ কোটি ডলারের রপ্তানির ১ শতাংশের মতো। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে বড় ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হলেও এর প্রভাব ইউরোপের ক্ষেত্রে পড়লে বাংলাদেশের বাণিজ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা।