আগামি অধিবেশনেই উঠবে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট : অর্থমন্ত্রী

0
68
muhit
আবুল মাল আবদুল মুহিত

muhit_7500সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ)। আগামি অধিবেশনেই এই আইনের খসড়া জাতীয় সংসদে উঠবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকের কাছে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এই আইনের খসড়া প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে আছে। এটি আগামি অধিবেশনেই সংসদে উঠবে। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি বা চাপে কাজ হবে না।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক প্রাক-বাজেট বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ তথ্য জানান সাংবাদিকদের।

এদিকে দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এফআরএ প্রণয়ন ও ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠনের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটি পুঁজিবাজার উন্নয়নে আলাদা দুটি কর্মসূচির আওতায় ৩০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পেও তারা সহায়তা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এ কর্মসূচিতেও ১৫ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশনসহ কিছু সাফল্যের জন্য সরকারের প্রশংসা করা করা। পাশাপাশি এফআরএসহ তাদের দেওয়া অবশিষ্ট পরামর্শ (শর্ত) বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া।

উল্লেখ, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এফআরএ’র  দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি সরকারের আমলেই বিষয়টি সরকারের নজরে এনেছেন। তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত সরকারের শেষভাগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) চাপে সরকার এফআরএ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আগ্রহও এর পেছনে ভূমিকা রাখে। ওই বছরের ১৯ আগস্ট মন্ত্রীসভার বৈঠকে আইনের খসড়া অনুমোদিত হয়। জাতীয় সংসদে পাঠানোর আগে চূড়ান্ত যাচাইবাছাইয়ের জন্য এটিকে পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে।

একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান চলমান সংসদে আইনটি পাশ করা হবে। তিনি এও বলেন, চার্টার্ড একাউন্টেন্টসহ অনেকই চায় না আইনটি হোক। কিন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের লোকজন বলছে, আইনটি হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আসবে। তাই যে কোনো মূল্যে আইনটি করা হবে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস বাংলাদেশ (আইসিএবি) নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, তাদের সরকারের মেয়াদে এফআরএ সম্ভব নয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি গঠন করা হবে।

জানা গেছে, এডিবি পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্বের অর্থায়নে যে সব শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে এফআরএ’র বিষয়ও রয়েছে। আর এ কারণেই সরকারকে নড়েচড়ে বসতে হচ্ছে। তবে আইসিএবির দাবির মুখে খসড়া আইনে পরিবর্তন এনে অনেক ছাড় দিয়েই আইনটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।