আমাদের চেয়েও ভূমিদস্যূদের বেশি শক্তিশালী মনে হয়: গণপূর্তমন্ত্রী

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে নদী ভরাট। কোনোভাবেই তাদের থামানো যাচ্ছেনা। মাঝে মধ্যে মনে হয় তারা আমাদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। তবে সরকারের পলিসি ঠিক থাকলে তারা বেশিদিন টিকতে পারবে না।

আজ দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টারস শীর্ষক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইন. মোশাররফ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি নদী বেষ্টিত শহর। নগরবাসীর উপকারে নদীকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু বিভিন্ন চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। কারণ ভূমিদস্যুরা দিন দিন নদীগুলো ভরাট করে ফেলছে। কোনোভাবেই নদীভরাট রোধ করা যাচ্ছেনা। এক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভূমিদস্যুদের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালীর যোগসাজস থাকলেও তারা বেশি দিন টিকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলতেন বাঘে ধরলে ছাড়ে কিন্ত শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েনা। এখন ভূমিদস্যূদের ধরেছে। এখন আর কোনো ছাড়াছাড়ি নাই।

মোশাররফ হোসেন বলেন, পূর্বে ঢাকা সিটিতে যেসব আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেগুলোতে পরিকল্পনাকরীদের দূরদর্শীতার অভাব ছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাসন এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে পূর্বাচল আবাসিক এলাকা। পূর্বাচল হবে ভবিষ্যতের স্মার্ট সিটি। পূর্বাচলকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য স্কুল, খেলার মাঠ, শপিং মল, মসজিদ, বাজার ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি ৪৮ কি. মি. লেকের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। যেটা অন্য কোন আবাসিক এলাকাতে নেই।

তিনি বলেন, আপাতত কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য পূর্বাচল সিটিতে খুঁটির উপর দিয়ে তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সকল ব্যবস্থা মাটির নিচ দিয়ে চালু করা হবে।

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প নিয়ে ভাবছে সরকার। খুব শীঘ্রই বস্তিবাসীদের জন্য আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। বস্তিবাসীদের আবাসন স্থাপন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ৫০০টি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে। সেখানে ১০ হাজার ফ্ল্যাট হবে। এতে ৫০ হাজার বস্তিবাসীর জন্য আবাসন তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

অর্থসূচক/জেডএ/জেডআর