‘কৃষকরা ভালো নেই’

0
62

Us_mennonঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এর কোনো সুফলই পায় না দেশের কৃষকরা। প্রবল বৈষম্যের শিকার তারা। অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। সব সব মিলিয়ে ভালো নেই তারা

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কৃষিভিত্তিক কয়েকটি এনজিওর আয়োজনে ‘কৃষকের ও অধিকার ও কৃষি আদালত’ প্রসঙ্গে গোলটেবিল আলোচনা সভায় আলোচকরা এ কথা বলেন।

সভায় দেশের কৃষি ও কৃষককে রক্ষার জন্য একটি সংগঠিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এজন্য নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি। তিনি মনে করেন তারা এগিয়ে আসলেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কৃষিখাতকে বাঁচানো সম্ভব।

দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে যে ৬ শাতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির হার তা কেবল সম্ভব হয়েছে কৃষি খাতের জন্য।

তার মতে, কষিখাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের সাফল্যে দেশ আজ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চলেছে।

তবে দেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের এই অবদান থাকলেও কৃষকরা ভালো নেই উল্লেখ করে মেনন অর্থনৈতিক বৈষম্যে থেকে কৃষকদের মুক্ত করার আহ্বান জানান।

২০১০ সালের খানা জরিপের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান দেশে যে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে তাদের সকলেই কৃষক। বাস্তবে দেশে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ধনী-গরিবের বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর এই বৈষম্য নিরসনে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের কৃষক আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

মেনন বলেন, কৃষি নিয়ে আমাদের অঙ্গীকারের অন্যতম বিষয় ছিল, আধুনিক কৃষিনির্ভর উন্নতমানের বীজ, সার কীটনাশক সেচসহ কৃষি উপকরণের ভর্তুকি বাড়ানো, উপকরণ বিতরণ ও বাজারজাতকরণ ঢালাওভাবে ব্যক্তি মালিকানা না দিয়ে বিএডিসিকে সচল করে তার নিয়ন্ত্রনে আনা এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ধান, পাট, আখ, তামাক, পানসহ প্রধান ফসলগুলোর লাভজনক মূল্য পাবার ব্যবস্থা করা।

এ লক্ষ্যে কাজ করার পাশাপশি মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাত থেকে কৃষি পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের হাতে পৌছানোর ব্যবস্থা ও বাজারজাতের সমস্যাসমূহ দূর করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই সভায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সবার জন্য খাদ্য’ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে কৃষি ক্ষেত্রে  মূল লক্ষ্য চিহ্নিত করে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছিল। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণা এবং কৃষির আধুনিকাযনে বেশ কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

গোলটেবিল আলোচনায় কৃষি আন্দোলনে জড়িতরা বলেন, দেশের কৃষিখাতে অগ্রগতি অর্জনের পাশাপাশি নানাবিধ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বাজারে প্রাপ্ত সার-বীজ-কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরনে ভেজাল, কৃষি শ্রমিকের মজুরি, কৃষি পণ্যের মূল্য ইত্যাদি বিষয়ে অনেক সময় সরকারি নজরদারি থাকছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র সহ সমগ্র কৃষক সমাজ।

বক্তারা এসময় গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণের আলোকে চিহ্নিত কৃষিনীতি ও আইন এর কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন।

এমআর