বিদেশি ‘মে ফ্লাওয়ার’ এখন দেশেও চোখে পড়ে

0
249
May_Flower

May_Flowerমে মাসের গরমে কৃষ্ণচূড়ার পাশাপাশি যেই ফুলটি নিঃসন্দেহে নজর কেড়ে নেয় মনভরে দেয় তা হচ্ছে ‘মে ফ্লাওয়ার’।
অন্য অনেক ফুলই মে মাসে ফোটে কিন্তু এই ফুলের জীবনকাল শুধু মে মাস পর্যন্তই। বছরে একবার ফোটে। তাই এমন অদ্ভুত আচরণের জন্যই এর নাম রাখা হয়েছে মে ফ্লাওয়ার।

মে মাস এলেই লাল রঙয়ের গোলাকৃতির এ ফুলটি ফুটতে দেখা যায়। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে গাছে এই ফুলের কলি বের হয়, পরে এপ্রিলের শেষের দিকে ফুলটি ফোটা শুরু করে। তারপর পহেলা মে ফুল পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করে এবং মে মাসের শেষ সপ্তাহে আবার এই ফুল ঝরে পড়ে।

এই ফুলটির আদি নিবাস আফ্রিকা মহাদেশে। ফুলটি বল লিলি, গ্লোব লিলি, পাউডার পাফ লিলি বা আফ্রিকান ব্লাড লিলি নামেও পরিচিত।
মে ফ্লাওয়ারের ফুল, পাতা ও গাছের গড়ন সব মিলিয়ে বেশ নান্দনিক ও চোখে পড়ার মতো। অল্প বয়সী গাছগুলো দেখতে ছাতার মতো দেখায়। এ

ই গাছটি খুব বেশি বড় হয় না, উচ্চতায় ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। তবে মাঝারি আকারের হলেও, এটি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে। এই গাছের উপরদিকের মাথা ছড়ানো থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতে কচি পাতার সঙ্গে গোলাপি রঙের ফুলের ছোট ছোট থোকায় ভরে ওঠে গাছটি। ফুল প্রায় ৩ সেমি চওড়া, সুগন্ধি, পাপড়ি ও পুংকেশর অসমান। বাসি ও তাজা ফুল মিলে চমৎকার বর্ণবৈচিত্র্য তৈরি করে। ফল গোলাকার, লম্বা, গাঢ়-ধূসর ও শক্ত। এই ফুলটির পাতা চিড়চিড়ে আর মুখে হলুদরঙা ছোট কুঁড়ি, এর বংশ বৃদ্ধি হয় বীজের মাধ্যমে।

মে ফ্লাওয়ার বা লালসোনাইলের বিস্তৃতি পূর্ব ভারত থেকে মায়ানমার হয়ে একেবারে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের কিছু কিছু জায়গায় এই ফুলটি দেখতে পাবেন। এছাড়াও চন্দ্রিমা উদ্যানে লেকের ধারেও একটি গাছ আছে মে ফ্লাওয়ারের। ধানমন্ডি লেকে, রমনা উদ্যান ও পূর্ত ভবন প্রাঙ্গণে বিক্ষিপ্তভাবে আরও কয়েকটি গাছ আছে এর।

লাল ও হলুদ রঙের অপূর্ব সমন্বয়ে মে মাস এলেই যেন হেসে ওঠে ফুলটি। মনমাতানো কোনো গন্ধ না থাকলেও দূর থেকে দেখলেই এই বিদেশি ফুলটিকে দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে যে কারও।