তুলসির তেলেসমাতি

0
180
Tulsi

Tulsiহাজার বছর নয় শত বছর আগেও রোগের চিকিৎসায় নির্ভর করা হতো বনের ভেষজ উদ্ভিদের ওপর। তবে কালের আবর্তনে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কার বনের গাছের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে আমাদের। তার মানে এই না যে বনের ভেষজ উদ্ভিদগুলো তাদের কার্যকারিতা হায়িয়েছে।তাইতো একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মানুষ রোগ নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন ভেষজ পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে।

আমাদের দেশে বনে, অযত্নে অবহেলায় যে সকল ভেষজ উদ্ভিদ থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর নানা গুনে গুনান্বিত হচ্ছে তুলসি। গবেষকদের মতে তুলসির কোনো প্বার্শ প্রতিক্রিয়ায় না থাকায় এর প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার না কমে বরং বাড়ছে।

সর্দি-কাশি, কৃমিনাশক, বায়ুনাশক, হজমকারক ও রুচিবর্ধক হিসেবেও বহুল ব্যবহৃত হয় এটি। বহুবিধ ব্যবহারের জন্যই এটাকে বলা হয় কুইন অব হার্ব বা ওষধি গাছের রাণী।

তবে আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক কুইন অব হার্ব এর কুইক আ্যকশন সম্পর্কে…

এক, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তুলসি পাতার রস খেলে স্মৃতি শক্তি বাড়ে।

দুই, তুলসি পাতার রসে প্রচুর ক্লোরোফিল থাকায় নিয়মিত সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

তিন, তুলসি পাতা জলে ভিজিয়ে রাখলে জল দূষণমুক্ত হয় ও পরিশুদ্ধ থাকে।

চার, তুলসির বীজ ভিজিয়ে রেখে প্রত্যহ সকালে খেলে প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া দূর হয়।

পাঁচ, সর্দিসহ যে কোনো জ্বরে আদার রস ও মধুর  সাথে তুলসির রস খেলে তা উপশম হয়।

ছয়, শ্লেষ্মার জন্য নাক বন্ধ করে তুলসির সুবাস টানলে উপকার হয়।

সাত, কিডনিকে শক্তিশালী করতে তুলসি পাতা কাজ করে। একই সাথে এটি কিডনির পাথরও নির্মূল করতে পারে।

আট, যে সব শিশুর সর্দি কাশির প্রবণতা আছে তাদের সকালে ৫/১০  ফোঁটা তুলসি পাতার রস মধু সহ খাওয়ালে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

নয়, পোকামাকড়, বোলতা, বিছাপোকা কামড়ালে তুলসির রস ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখলে ব্যথা দূর হবে এবং আরাম বোধ হবে।

দশ, হামের দাগ ও সদ্য বসন্তের দাগ তুলতে তুলসির রস লাগালে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

এগার, পানের সাথে রোজ সকালে তুলসির শিকড় চিবিয়ে খেলে দেহ মনে সজিবতা ফিরে আসে। ফলে অকালেই বুড়ো হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়।