জলবায়ুর পরিবর্তন; বছরে ক্ষতি ১৭৬০০ কোটি টাকা

0
64

জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর ১৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছে দেশ। আর এই বিশাল পরিমাণের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিলেন পরিকল্পণা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার সকালে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পোভার্টি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট মেইস্ট্রিমিং (পিইসিএম) প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্ষতির তথ্য তুলে ধরে ওই পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য ইউএনডিপি ও ইউএনডিপির এনএনইপির যৌথ সহযোগিতায় প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই মাসে। আর শেষ হয়েছে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ মিলিয়ন ডলার।

মন্ত্রী এসময় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতির জন্য মুলত উন্নত বিশ্ব দায়ী। তার মতে উন্নয়ত বিশ্বের চাপিয়ে দেওয়া এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি  জানান, পিইসিএম প্রকল্পটির আওতায় একটি নমুনা পরিচালনা করা হয় সুনামগঞ্জ জেলায়। সেখানকার স্থানীয় জনগনকে প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি শেখানো হয়েছে এবং জনগণকে এ সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশী সচেতন হয়েছে।

উল্লেখ্য কিছু দিন আগে যে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুসহ পরিবেশগত নানা দিক অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিকল্পনা কমিশন।কমিশন তখন জানায়, এর ফলে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এককভাবে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটিই নয় পাশাপাশি পরিবেশ ও দুর্যোগের ইস্যুটিকেও আরো নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিভন্ন সংস্থার তথ্য মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে এর প্রভাবে বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা। লবণাক্ততার ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উপকূলীয় এলাকার লাখ লাখ মানুষ। খরা ও আকস্মিক পাহাড়ি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় আড়াই কোটির বেশি মানুষ।
এর ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের চাল উৎপাদন ৮ শতাংশ এবং  গম উৎপাদন ৩২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এনজিওগুলোর প্রতিবেদনে।

মন্ত্রী ছাড়াও সভায় বক্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন গ্রামীন জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। তারা জানান, পিইসিএম প্রকল্পটির আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পরিবেশ সম্পর্কে আরও সচেতন করা হচ্ছে।

তাদের মতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সচেতন হলে মোট ক্ষতির অভিঘাতটা কিছুটা কমে আসবে। এসময় তারা মন্ত্রীর বেসরকারি খাতকে সংম্পৃক্ত করার পরামর্শেরও সমর্থন জানান।

উল্লেখ্য, আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পণা মন্ত্রণালয়ের সচিব  ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য  শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের মো নজিবুর রহমান, ইউএনডিপির কান্ট্রি পরিচালক পাউলিন তামেসিস প্রমুখ।

এইচকেবি/