জামায়াতের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা

0
60
jamayat

jamayatএকাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তদন্ত সংস্থার পক্ষে প্রধান প্রসিকিউশন গোলাম আরিফ টিপুর কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।

এ সময় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল-মালুম, সাইফুল ইসলাম, রেজিয়া সুলতানা জমন ও তাপস কান্তি বল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সেদিন এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তদন্ত সংস্থা জানায়, বৃহস্পতিবার অথবা আগামি সপ্তাহে তা প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, আজ দুপুরে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন চলছে। জামায়াত এবং তাদের অঙ্গ সংগঠন আলবদর ও আল-শামসের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ এর আলোকে তৈরি এ তদন্ত প্রতিবেদনে জামায়াত ও তার সকল অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ও অবলুপ্ত করার আরজি জানানো হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান জানান, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো সারাদেশে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছিল তদন্তে তার প্রমাণ তারা পেয়েছেন। জামায়াতের অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতাসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে গঠিত শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী এবং জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৪ এর ১ ও ৪ এর ২ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি দেওয়া ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার দায়ে জামায়াতের সে সময়কার আমির গোলাম আযমকে গত ১৫ জুলাই ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি উঠে।