‘নতুন ব্যাংকের অনুমোদন সৃষ্টি করবে ঝুঁকি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
60

২০১৭ সাল ছিল দেশের অর্থনীতির জন্য দুর্বল বছর বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনগবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তব্য রাখেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় এখন আরো বেশি নাজুক। সরকার যদি এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তার প্রভাব থাকবে ২০১৮ সালেও। সঙ্গে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন আরো ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঋণের ওপর কয়েকটি ব্যাংকে ব্যক্তির প্রাধান্য বিস্তার করছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তি খাতের নতুন ব্যাংক কার্যকর হতে পারেনি। এসব ব্যাংক থেকে বিদেশে টাকাও পাচার হচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে তুলা আমদানি ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও উৎপাদনে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি বিভিন্ন  সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগই আমদানি-রপ্তানি মূল্য কারসাজির মাধ্যমে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক  ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের  (এনবিআর) খতিয়ে দেখা উচিত।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০১৭ সাল সামষ্টিক অর্থনীতি দূর্বল হয়ে পড়েছে। অর্থপাচার, দারিদ্র্য ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে।২০১৮ সাল যেহেতু নির্বাচনী বছর, এ বছর সামষ্টিক অর্থনীতি আরো দূর্বল হয়ে পড়বে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৮ সালে অর্থনীতিকে রক্ষণ ব্যবস্থাপণার দিকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সাল ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই খাতে সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।  ২০১৮ সালে এর কোনো সুরাহা হবে বলে মনে হচ্ছে না।  এমন ম্যাজিক্যাল কিছু ঘটবে না যাতে বড় ধরনের সংস্কার হবে। সংস্কার করার মতো রাজনৈতিক পুঁজিও নাই।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কারের পরিবর্তে উল্টো ব্যাংক কোম্পানি আইন  সংশোধন করে পরিবারের হাতে ব্যাংকগুলোকে জিম্মি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যাংকগুঅলোর বিশৃঙ্খলার মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন করে আরও ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসব ব্যাংকের অনুমোদন এখাতে সৃষ্টি করবে ঝুঁকির।

তিনি বলেণ, প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্রতা কমেনি।কর্মসংস্থানও হয়নি। এক্ষেত্র সরকার ব্যর্থ হয়েছে।  প্রবৃদ্ধির গুনগত মান বাড়াতে হবে।

২০১৭ সালে প্রতিশ্রুতির মতে বিনিয়োগ হয়নি। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থসূচক/আজম/এইচজে