অবশেষে রোহিঙ্গা হত্যার অভিযোগ স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

অর্থসূচক ডেস্ক

0
53
মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ছবি বিবিসি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ সত্ত্বেও সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যায় জড়িত ছিল দেশটির সেনা সদস্যরা।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সেনাবাহিনী বলছে, তদন্তে উঠে এসেছে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ জন সদস্য মংডুর কাছে ডিন গ্রামে ১০ জন মানুষকে হত্যার সাথে জড়িত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদেরকে ‘বাঙ্গালি সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপরে নির্মম হামলা চালাতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তা করেছিল।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ছবি বিবিসি।

 

গত ডিসেম্বরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ডিন গ্রামে একটি গণকবরের ভেতর থকে ১০টি মানুষের খুলি পাওয়ার পর সে বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়। ওই তদন্ত শেষে ফলাফল দেশটির সেনা কমান্ডার ইন চিফের ফেসবুক পাতায় দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয় গত ২ সেপ্টেম্বর ওই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, এটা সদ্য যে গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উভয়পক্ষই স্বীকার করেছে যে তারা ১০জন ‘বাঙ্গালি সন্ত্রাসী’কে হত্যা করেছে।

এতে আরও বলা হয় এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেনাবাহিনী। তবে সেখানে আরো বলা হয়, এ ঘটনার কারণ সেখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসীরা ভয় দেখিয়ে প্ররোচিত করেছিল।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম।

তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের স্বীকারোক্তি বিরল।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত আগস্ট মাসে সেখানে নতুন করে সহিংসতা শুরুর হলে হত্যা –নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা।

ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা উঠে এসেছে তাদের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ স্থানীয়রা ও সেনাবাহিনী তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষদের হত্যা করেছে।

যদিও বরাবরই মিয়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে।

অর্থসূচক/এসবিটি