‘দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক ১ কোটি ১০ লাখ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
82

থ্যালাসেমিয়া রোগের কোন ওষুধ নেই বাংলাদেশে। কার্যকরী পদক্ষেপ এবং জনসেচতনাই এ রোগের হাত থেকে রক্ষার প্রধান উপায়। বর্তমানে বাংলাদেশে এক কোটি ১০ লাখ লোক অজ্ঞাতসারে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই রোগে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালযে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে নেওয়া থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কার্যক্রম জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ফাইল ছবি

‘দুই হাজার আটাশে-থ্যালাসেমিয়া সমস্যা থাকবে না বাংলাদেশে’ স্লোগানে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামীকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হবে। এছাড়া ঢাকা শহরকে দশটি ভাগ করে ১০ গ্রুপ বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় থ্যালাসেমিয়াজনিত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোড শো করা হবে। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলায় থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারের জন্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

এছাড়া বিয়ের আগে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দম্পতি নির্ণয়, গর্ভাবস্থায় থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং, ঝুঁকিপূর্ণ দম্পতিদের গর্ভস্থ ভ্রুন পরীক্ষা, রোগীদের জন্য জাতীয় রেজিস্ট্রি প্রণয়ন, চিকিৎসায় গাইডলাইন প্রণয়ন, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের বিষয়ে প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা উপকরণ সহজলভ্য এবং জাতীয়ভাবে প্রচার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। বাবা বা মা কিংবা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়ার জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটা কোনো ক্যান্সারও নয়। এই রোগে আক্রান্তের দেহে ত্রুটিযুক্ত লোহিত কণা উৎপন্ন হয় বলে এই কোষগুলো পূর্ণ জীবনকালের আগেই ভেঙ্গে যায়। এ কারণে তাদের নিয়মিত রক্ত পরিসঞ্চালন করে বেঁচে থাকতে হয়।’

থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো স্থায়ী প্রতিষেধক বা সহজ প্রতিকার না থাকায় এর প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি জাতীয় রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া এবং এর প্রতিরোধের বিষয়ে জনগণের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

অর্থসূচক/আজম/জেডআর