‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বপ্নের স্বদেশ গঠন করা সম্ভব’

0
105
samsujjaman

samsujjamanসবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্বপ্নের স্বদেশ গঠন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুসলিম বিশ্ব” শীর্ষক এক প্রবন্ধ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ ধ্বনির মাধ্যমে আমরা যেভাবে দেশপ্রেমের ঐক্যবদ্ধ-প্রগাঢ় প্রকাশ ঘটিয়েছি তেমনি জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রে সততা, ন্যায়পরতা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের চর্চা  স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রাবন্ধিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে মুসলিম বিশ্বের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বাঙালির জীবনপণ ন্যায়যুদ্ধ বিভিন্ন দেশের নাগরিক সমাজের মনোযোগ ও সহানুভূতি অর্জন করলেও মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকার ছিল বিরোধী অবস্থানে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশি ভারত এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ জোর সমর্থন জানালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী বিশ্ব ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রবল বিরোধী। এরই অনুগামী হয়েছিল মুসলিম বিশ্ব যার অধিকাংশ ছিল তাবেদার রাষ্ট্র; মার্কিন অনুগত এবং ইসলামের নামে পাকিস্তান রক্ষায় সোচ্চার ও সক্রিয়।

তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার প্রভাব স্বাধীন বাংলাদেশেও পড়ে। একাত্তরের এই ভূমিকার কারণে সৌদি আরবসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী মুসলিম দেশসমূহ স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করেছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানপন্থী অনেক বাঙালি মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের এ তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্যা বলেন, পাকিস্তান একাত্তরে শুধু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালায়নি বরং তারা ইসলাম ও মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে একাত্তরে পাকিস্তানের ঘৃণ্য তৎপরতায় বহু মুসলিম রাষ্ট্র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একাত্তরে মুসলিম বিশ্বের বিরাট অংশ বাংলাদেশর বিপক্ষে ছিল তবু ন্যায়সংগত সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বাংলা একাডেমি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ৮:০০টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাহমুদ সেলিমের রচনা, সুর সংযোজনা ও নির্দেশনায় উদীচী পরিবেশন করে গীতিআলেখ্য ইতিহাস কথা কও। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই গীতিআলেখ্যটি কেরানীগঞ্জে প্রথম পরিবেশিত হয়। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু। এতে উপস্থাপনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

এসএস/