চায়ের তিন বাজারে তিন চিত্র

0
554
tea regulatory duty

Sweet-Hot-Teaখুচরা বাজারে চায়ের দোকানিরা বলছেন চায়ের দামে কোনো হেরফের হয়নি। পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভালো মানের চায়ের দরে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫-২০ টাকা। কিন্তু চায়ের দাম যেখানে নির্ধারণ হয়, সেই চট্টগ্রামে এই মৌসুমের প্রতিটি নিলামে কমছে চা পাতার দাম। চায়ের দামে এ হযবরল অবস্থার কারণে বাগান মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি চা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরাও সমান ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে শিল্পটি।

রাজধানীর চায়ের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের চায়ের দর বেড়েছে। ৫৫ কেজির মধুপুরী চায়ের বস্তার পাইকারি দর ১৭ হাজার টাকা। যা গত কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৬ হাজার টাকা।

তবে চট্টগ্রামের নিলামে গেল আট সপ্তাহ  ব্যাবধানে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ৭৪ টাকা ৫৭ পয়সা। আর মাত্র এক সপ্তাহ ব্যবধানে গত নিলামে কমেছে ২১ টাকা ২০ পয়সা। গেল বছরের আগষ্ট মাস থেকে প্রতি নিলামেই কমছে চায়ের দাম।

এবছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও  আমদানি বেড়ে যাওয়ায় অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে বিপুল পরিমানের চা। তাই প্রতি নিলামে চা বিক্রির পরিমান কমার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে কমছে চায়ের দামও।

নিলামে চায়ের দাম কমলেও রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চায়ের দামে পরিবর্তন হচ্ছেনা কেন এর উত্তরে ব্যবসায়ীরা জানান, একসপ্তাহ পর থেকে নিলাম বন্ধ হয়ে যাবে। এক সপ্তাহ পড়েই এই শিল্পের অফ সিজন। চট্টগ্রামে ৫৪ সপ্তাহে ৪৮ টি নিলাম হয়। বাকি ছয়টা নিলামের আগে ব্যবসায়ীরা চা মজুদ রাখে। এসময় বাজার নিয়ে কোনো ধারণায় করা যায়না।teakaptan bazzar

এছাড়া তারা দাবি করেন চায়ের দর নিলামে কমলেও ঐগুলো ভালো মানের চা নয়। কাইয়াছেড়া, ক্লিভডন, পাতরাকুলা এসব চায়ের দরদামে কোনো হেরফের হয়নি। রাজধানীতে যে পিএফ সাইজের ও মানের  চা বেশি চলে তার দরেও কোনো হেরফের হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক নিলাম বাজারের চিত্র বলছে, বাজারে চায়ের চাহিদা ও দাম দুই-ই কমেছে। সংলিষ্টরা দাবী করেন, অব্যাহতভাবে চা আমদানির ফলে এটা  হচ্ছে।  তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামিতে চায়ের দাম আরও কমতে পারে।

চা বোর্ডের সর্বশেষ  ৮টি নিলামে দেখা গেছে  ৩৬ তম নিলামে কেজি প্রতি গড়ে ১৮৯ টাকা, ৩৭ তম নিলামে ১৭৭ টাকা ২৯ পয়সা , ৩৮ তম নিলামে ১৭০ টাকা ৭৬ পয়সা, ৩৯ তম নিলামে ১৪৩ টাকা ৭২ পয়সা, ৪০ তম নিলামে ১৩০ টাকা ০২ পয়সা, ৪১ তম নিলামে ১২৯ টাকা ৪৬ পয়সা,   ৪২ তম নিলামে ১৩২ টাকা ৯৫ পয়সা, সর্বশেষ ৪৩ নিলামে বিক্রি হয়েছে গড়ে ১১৪ টাকা ৭৫  টাকা কেজি দরে।

অর্থ্যাৎ গেল আট সপ্তাহ ব্যবধানে বিক্রি কমেছে ৭৪ টাকা ৫৭ পয়সা । যার মধ্যে গেল এক সপ্তাহ ব্যবধানে কমে গেছে কেজি প্রতি ২১ টাকা ২০ পয়সা।

রাজধানীর বায়তুল মোকারমের ফুটপাতের চা দোকানের মালিক রুবেল জানান, তার দোকানে প্রতিদিন ৮শ থেকে একহাজার কাপ চা বিক্রি হয়। গরমকাল চলে আসায় চায়ের চাহিদা অনেক কমে গেছে। শীতের সময় ১৫ শ কাপও বিক্রি করেছেন ।

এই মৌসুমে চায়ের দরে কোনো পরিবর্তন পেয়েছে কিনা তার উত্তরে তিনি বলেন, কয়েক মাস যাবত একই দরে তিনি প্যাকেটজাত চা কিনেছেন।

চা সংসদের চেয়ারম্যান সাফওয়ান চৌধুরী অর্থসূচককে বলেন, সরকার আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ কমিয়ে আনায় আমদানি বেড়ে গেছে। ফলে দেশে উৎপাদিত চায়ের দাম প্রতি নিলামে কমছে। উৎপাদনকারীরা প্রতি কেজি চা উৎপাদনে যে টাকা খরচ পরে সে টাকাও তুলতে পারছেন না।

এ অবস্থায় সাফওয়ান চৌধুরী দ্রুত আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় চা শিল্পকে রক্ষাকরার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কিন্তু রাজধানীর কাপ্তান বাজারের পাইকারি আড়ৎদার ‘জনপ্রিয় চা’-র মালিক আকিব বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, দেশে চোরাইপথে কিংবা সিন্ডিকেট করে, করফাঁকি দিয়ে চা আনা হচ্ছে। চোরাইপথে আনা এসব চা চোকধাঁধানো মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র চায়ের আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম আগ্রাবাদে অবস্থিত। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এখানে দেশি-বিদেশি ক্রেতার উপস্থিতিতে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।