নারীর হৃদরোগের চিকিৎসায়ও বিপজ্জনক বৈষম্য!

অর্থসূচক ডেস্ক

0
60

নারী-পুরুষের বিদ্যমান বৈষম্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতন মানুষেরা সোচ্চার। প্রায় সবক্ষেত্রে বৈষম্যে বাদ যায়নি স্বাস্থ্যক্ষেত্রও। গবেষণায় দেখা গেছে নারীর জন্য হৃদরোগের চিকিৎসা বিপজ্জনকভাবে বৈষম্যমূলক। হৃদরোগের চিকিৎসার অবহেলার কারণে বছরে নারীদের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ।

ব্রিটিশ হৃদরোগ ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, হৃদরোগ সাধারণত পুরুষদের স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারের তুলনায় নারীদের বেশি মৃত্যু ঘটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।

গত ১০ বছরে ১লাখ ৮০ হাজার ৩৬৮ জন হৃদরোগে আক্রান্ত সুইডিশ রোগীর ওপর গবেষণা করে তথ্য জানিয়েছে সুইডেনের অনলাইন কার্ডিয়াক রেজিস্ট্রি। তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে দেশটির লিডস ইউনিভার্সিটি ও ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নারীরা পুরুষের তুলনায় অপর্যাপ্ত চিকিৎসা পেয়েছে। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস গেইল বলেন, সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে ভুল ধারণা রয়েছে।

সাধারণত, আমরা একটি হৃদরোগের রোগী হিসেবে দেখি একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ যার রয়েছে বাড়তি ওজন, ডায়াবেটিস ও ধূমপায়ী।

তবে সবসময় একই ঘটনা হয় না। হৃদরোগের প্রভাব আরো বড়, বিশেষ করে নারীর জন্য।

হৃদরোগের একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় নারীরা ৩৪ শতাংশ কম চিকিৎসা পান। এসময় বন্ধ থাকা ধমনী খুলে দিতে হয়, যার জন্য বাইপাস সার্জারি ও স্ট্যান্টসের প্রয়োজন হয়। তাদের ২৪ শতাংশ কম স্ট্যাটিন ওষুধ দেওয়া হয়। এই ওষুধ দ্বিতীয়বার হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। আর ১৬ শতাংশ কম অ্যাসপিরিন দেওয়া হয়, যা রক্তের জমাট বাঁধা দূর হয়।

কিন্তু এই তিন ধরণের চিকিৎসাই নারী-পুরুষ উভয়কেই দেওয়া প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে নারী যখন সবধরণের চিকিৎসা পেলে সবক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে।

যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ১২ হাজার পুরুষ ও ৭০ হাজার নারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অধ্যাপক গেইল বলছেন, নারীদের সমানভাবে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করানো হয় না। এতে তাদের ৫০ শতাংশ ভুল চিকিৎসা করা হয়।

শুধু হৃদরোগ নয়, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগে। তবে তা মৃত্যুহারে তেমন ভূমিকা রাখে না।

অর্থসূচক/এসবিটি