সংস্কার যুক্তি টিকলো না ভারতে: কমছে প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
57

নোট বাতিল ও জিএসটির প্রভাবে ভারতের চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কমছে। দেশটির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেশটির আর্থিক বৃদ্ধির হার বা জিডিপি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৪ সালে মে মাসে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত চার বছরে প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্নস্তরে গিয়ে ঠেকেছে। গতকাল শুক্রবার এ আর্থিক বছরের বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। জিএসটি চালুর আঁচ যে অর্থনীতির ওপরে পড়েছে তাও স্বীকার করেছে সরকার।

কিছুদিন আগে ভারতের সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমশ তলানিতে পৌঁছানোর কথা স্বীকার করেন। সূত্র আনন্দবাজার, জি নিউজ।

ভারতের প্রবৃদ্ধির হার কমতে পারে, বাজেটের পূর্বাভাস। ছবি সংগ্রহ।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্থমন্ত্রীর বাজেট নির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে দেখা হয়। আগামী পয়লা ফেব্রুয়ারী দেশটির বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০১৭-১৮ তে আর্থিক বৃদ্ধির হার থাকবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৪-১৫ তে যা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। নোট বাতিল ও জিএসটির প্রভাবে প্রবৃদ্ধির এ দশা বলে উঠে এসেছে স্বয়ং কেন্দ্রের প্রতিবেদনে।

তবে নোট বাতিল এবং জিএসটি নিয়ে বরাবরই কেন্দ্র এই সংস্কারের সুফল পাবে দেশ।  বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সিদ্ধান্তের প্রভাবে আর্থিক বৃদ্ধির এই নিম্নহার কেন্দ্রের যুক্তিকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রমাণিত করেছে।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০৫-০৮ সালে তা ছিল ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন অনেকটাই কম। তারপরও আর্থিক বৃদ্ধিতে পেছনে পড়ে যাওয়ায় অবাক অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের একাংশও বলছেন, নোট বাতিল এবং জিএসটির জন্য আর্থিক বৃদ্ধির এই দশা। তাদের বক্তব্য, জিএসটির ক্ষেত্রে খুব একটা প্রস্তুতি না নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়েছিল। যার ফলে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ধাক্কা খায়। আর নোট বাতিলে যা ক্ষতি হয়েছে তার মাশুল গুনতে হবে অনেক দিন।

ভারতের আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন অসংগঠিত ক্ষেত্রে এই হার আরও কমতে পারে। কিছু দিন আগে রেটিং সংস্থা মুডিজ ও বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদনে মোদি সরকার চাঙ্গা হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক বৃদ্ধির এই দুর্দশা বুঝিয়ে দিল নোট বাতিল এবং জিএসটি চালুর ধাক্কা থেকে এখনও বের হতে পারেনি দেশটির অর্থনীতি।

অর্থসূচক/এসবিটি