‘ডাব খাইয়া যান’

0
100
dub

OLYMPUS DIGITAL CAMERAচারদিকে খাঁ খাঁ রোদ আর ভ্যাপসা গরমই জানান দেয় ঋতু পরিবর্তন হয়ে গরমকাল চলে এসেছে। আর এই গরমে শরীর প্রায়ই নিস্তেজ হয়ে আসে। এ সময় আপনাকে একটু স্বস্তি এনে দিতে পারে ঠাণ্ডা এক গ্লাস ডাবের পানি।

রাজধানীর ফুটপাত, অফিস-আদালতের সামনে অর্থাৎ যেখানে লোকসমাগম বেশি এমন স্থানগুলোতে ডাব কেনা-বেচা চলতে দেখা যায়। আর বিক্রেতারা লোকজনকে ডাকছেন- “ডাব খাইয়া যান, কইলজ্যা ঠাণ্ডা করেন”

এই গরমে রাজধানীতে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শরবত। আর তৃষ্ণার্ত পথচারীরা বাছ-বিচার না করেই পান করছে ফরমালিন ও সেকারিন মেশানো রং বেরঙের শরবত। ফলে নানা রকম পানিবাহিত পেটের পীড়ায় ভুগছেন অসংখ্য মানুষ।

শুধু তাই নয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আখের রস পান করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে পথচারিরা। অবশেষে ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। তবে ডাবের পানি এসব পানিবাহিত রোগের উপকার করে। প্রতিবছর গরমে ডাবের কদর বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে দামটাও একটু বেশি থাকে।

বিক্রতার বক্তব্য:

সারা বছরই ডাব পাওয়া গেলেও গরমে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানালেন যাত্রাবাড়ী মোড়ে ডাব বিক্রেতা শুকুর আলী। তিনি বললেন, ‘বরিশাল, ঝালকাঠি থেকে ঢাকাতে ডাব আসে। আমরা শ্যাম বাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে ১শ  ডাব কিনে আনি।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর গরমের সময় সবাই ডাব বেশি খায় বলে এ সময় আমি ডাব বিক্রি করি। এখন বেচা বিক্রি ভালই হয়। ব্যবসাপাতির পর হাতে কিছু থাকে।’

ডাবের উপকারিতা:

মেডিকেল সায়েন্সের মতে,  ডাবের পানি যেমন উপাদেয় তেমনি স্বাস্থ্যকর। এর সবচেয়ে আশ্চর্য গুণ হচ্ছে, এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া ডাবের শাঁসে যে ক্যালরি রয়েছে তা কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। এর ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার শরীরের কর্মশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে:

এদিকে ডাবের পানি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং ক্ষুধার প্রবণতা কমে আসে। ফলে কম খাওয়া হয়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে:

ডাবের পানিতে কোনো চর্বি নেই, বরং এটি শরীরের অতিরিক্ত চিনি শোষণ করে। ফলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ডাবের পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে গরমের সময়ও শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে।

ডাবের পানির আরও যত গুণ:

ডাবের পানি পান করুন। ডাব নারকেলের পানিতে রয়েছে শত গুণ । ডাবের পানিতে ১৯টি খনিজ উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে দুটো ডাব খেলে ত্বকের কোমলতা বাড়ে। গায়ে বসন্ত হলে কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুলে দাগ চলে যায়। মুখে ব্রণের দাগ হলে ডাবের পানি দিয়ে ধুলে দাগ চলে যায়। তুলা ডাবের পানিতে ভিজিয়ে মুখে লাগিয়ে শুকাতে দিন। তারপর হাত দিয়ে আস্তে আস্তে মুখ ঘষে দেবেন। এতে মুখে কিছুটা উজ্জ্বলতা চলে আসবে। মুখের ত্বক কোমল ও মসৃণ হবে। নানী-দাদীরা সেকালে ডাবের পানি দিযে চুল ধুতেন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা যেমন বাড়তো তেমনি চুলও পড়তো না। অনেক সময়  ঝুনো নারকেল নষ্ট হয়ে যায়। এই নষ্ট নারকেল না ফেলে পাটা বা শিলে পিষে মাথায় ঘষে দিয়ে ঘণ্টা খানেক পরে মাথা ধুলে চুল শুকোনোর পর দেখবেন চুল তেল দেওয়ার মতো হয়েছে। চুলের পরিচর্যায় নারকেল বেশ উপকারী।

রাজধানীর প্রতিটি বাস স্ট্যাণ্ড, ফুটপাত, বাজার সবখানে দেখা মিলবে ডাবের। এসব জায়গায় আপনি বড় ডাব কিনতে পারবেন প্রতিপিস ৫০ টাকা, মাঝারি আকারের ডাব ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের ডাব ৩৫ টাকা দরে।

এসএস/এআর