প্রথম শুক্রবারেই জমজমাট বাণিজ্যমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
79

ইট কাঠের এই শহরে বিনোদনের তেমন জায়গা নেই নগরবাসীর। তাই কোনো উপলক্ষ পেলেই তা লুফে নেয় নগরবাসীরা। আর সেটি বাণিজ্যমেলা হলো তো কথাই নেই। মেলা শুরু হওয়ার পর আজ প্রথম শুক্রবারের সাপ্তাহিত ছুটির দিনে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে চাকরিজীবী, গৃহিনীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, সকালে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম থাকলেও বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরের পর মেলা প্রাঙ্গণ ভরে উঠতে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায়। বিকেলের পর টিকেট কাউন্টারগুলোতে দর্শনার্থীর দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলের দিকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গণ- এ যেন এক জনসমুদ্র। এ সময় বিক্রেতাদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।

মেলার সব কয়টি স্টলের প্রতিনিধিদের তাদের পণ্য প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকতে যায়। তারা জানান, আগের ৪ দিনের চেয়ে আজ মেলায় দর্শনার্থীদের সংখ্যাও অনেক বেশি; সেই সঙ্গে বেচাকেনাও বেশি।

আগারগাঁও থেকে আসা সিরাজদৌলা জানান, আমি আমার মেয়ের জন্য একটি দূরন্ত বাইসাইকেল কিনেছি। মেলাতে অফার থাকায় বাইরে থেকে অনেক কম দামে সাইকেলটি কিনতে পেরেছি। ৭৩২৬ টাকার সাইকেল  আমি কিনতে পেরেছি মাত্র সাড়ে ৫ হাজার টাকায়।

কেবল কেনাকাটা করতে নয় অনেকে ঘুরতে এসেছেন মেলায়। মোহাম্মদপুর থেকে আসা জুয়েল রানা বলেন, আজ আমরা কেবল মেলা দেখতে এসেছি। শেষের দিকে বন্ধুরা সবাই মিলে আবার আসব। তখন কেনাকাটা করব।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৮৯ স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। মেলায় ১৭ দেশের ৪৩ প্রতিষ্ঠানের স্টল বা প্যাভিলিয়ন থাকছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য থাকছে দুটি শিশুপার্ক, সুন্দরবনের আদলে একটি ইকোপার্ক।

নিরাপত্তায় মেলায় পুলিশ ও র্যা বের ওয়াচ টাওয়ারসহ আনসার ও ভিডিপি, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিজিবি এবং র্যা ব সদস্যরা মোতায়েন থাকছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

বাণিজ্য মেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। প্রবেশ ফি প্রতিজন ৩০ টাকা। ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো ও ভুটান। অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করছে।

মেলাকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে মেলায় ফিশ ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম প্রদর্শন করা হয়েছে, শিশুদের জন্য থাকছে পার্ক, গেমিং জোন ও খেলার উপকরণ। এবারের মেলার মূল ফটকে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়  বাংলাদেশ,  ভারত,  পাকিস্তান,  ইরান, জাপান, চিন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও দেশের প্রতিষ্ঠান মেলায় নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করে। দেশি ও বিদেশি পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন, রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্য উত্পাদনকারীরা একদিকে তাদের উত্পাদিত পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারেন, অন্যদিকে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ লাভ করে। প্রতিবছর পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে চলে এ মেলা।

জেএন/এসএম