ভ্যাটে কর্মজীবী মায়ের ভরসা ‘কিডস ডেন’

রহমত রহমান

0
111

রাজস্ব আহরণে পুরুষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারী কর্মকর্তারা সমান যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। পুরুষ কর্মকর্তাদের চেয়ে নারী কর্মকর্তারা ছোট সন্তানদের নিয়ে বেশি দুচিন্তায় থাকেন।

বিশেষ করে বাসায় যখন রেখে আসেন। আবার অফিসে নিয়ে আসলেও রাখা, সেবা-যত্ন করার ব্যবস্থা থাকে না। সন্তান বাসায় রেখে রাজস্ব আহরণের মতো কঠিন কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন না।

রাজস্ব বিভাগের প্রতিনিয়ত নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ছে। নারী কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ছোট সন্তানদের যত্ন আর নিরাপত্তায় ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

রাজস্ব বিভাগের নারী কর্মকর্তাদের সন্তানদের যত্ন আর নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) শিশু দিবা যত্ন সেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

‘কিডস ডেন’ নামে এ শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্রটি সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিদায়ী চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।

চেয়ারম্যানের জন্মদিনে শিশুদের সাথে হেসে খেলে এটি উদ্বোধন করেন। এনবিআরের মূসক বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম কোন কমিশনারেট এমন ভালো উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ভ্যাট দক্ষিণ এর একজন নারী কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, বদলি আমাদের চাকরির একটি অংশ। আমার মতো ছোট সন্তান যাদের রয়েছে তারা বদলিতে একটু বেশি সমস্যায় পড়েন।

তিনি বলেন, সব কিছুর ওপর আমাদের রাজস্ব আহরণে মনোনিবেশ করতে হয়। কিন্তু শিশু সন্তান থাকলে তাকে নিয়ে রাজস্ব আহরণের কাজটি করা খুবই দুরুহ হয়ে পড়ে।

ছোট সন্তানকে বাসায় রেখে আসলে সময় মতো খাওয়ানো, দেখাশোনা খুবই কষ্টের। চোখের সামনে না থাকলে সারাক্ষণ দুচিন্তায় থাকতে হয়। সমস্যা হলে অফিস ফেলে যাওয়া কঠিন।

আমরা বিষয়টি বললেও গুরুত্ব দেয়নি। তবে ঢাকা দক্ষিণ এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করায় কমিশনারকে ধন্যবাদ। সন্তান চোখের সামনে থাকলে আগের চেয়ে বেশি কাজ দিতে পারবো।

আরেকজন নারী কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ের কঠিন কাজটি আরও মসৃণ হবে যদি পরিবারের ছোট ছোট সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মজীবী মা বাবাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকতে হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ এমন অন্যন্য উদ্যোগে সাধুবাদ। শুধু ঢাকা দক্ষিণ নয় সব কমিশনারেট এমন উদ্যোগ গ্রহণ করলে রাজস্ব বাড়বে, সব মহলের প্রশংসা পাবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, যেসব নারী কর্মকর্তার ছোট সন্তান রয়েছে তারা সবাই সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিতায় থাকেন। বিশেষ করে বাসায় রেখে আসলে। তখন কাজে ক্ষতি হয়। তারা দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছে। এর ভিত্তিতে আমরা একটি শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেই এবং স্থাপন করি।

তিনি বলেন, এখানে শুধু আমাদের অফিস না ভ্যাট, কাস্টমসে অন্যান্য অফিসে নারী কর্মকর্তারা বাচ্চা রাখতে পারবেন। শিশুদের যত্ন করতে আমরা দুইজন কর্মী নিয়োগ করেছি। তারা দেখাশোনা করবেন। এখানে শিশুদের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী, ছবি আঁকা, লেখাপড়া করার ব্যবস্থা রেখেছি। বাচ্চাদের খাবার বাসা থেকে নিয়ে আসতে হবে। সময় মতো খাওয়ানো হবে। সময় করে মায়েরা এসে সন্তানদের দেখে যেতে পারবেন। নয়নাভিরাম এ কেন্দ্রটি করতে বেশি টাকা খরচ হয়নি। চাইলে সব কমিশনারেট এমন কেন্দ্র করলে রাজস্ব আহরণে ভালো ফল পাবেন।

উদ্বোধন শেষে মো. নজিবুর রহমান বলেন, আমি এ কিডস জোনে এসে মনে করছি আগামী দিনের যারা নেতা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলাম। ২০৪১ সালে এরাই দেশের নেতৃত্ব দেবেন।

তিনি বলেন, কর্মজাবী মায়ের সন্তানদের শিশুদের যত্নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু যত্ন কেন্দ্র এসব সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ভ্যাট ঢাকা (দক্ষিণ) কিডস জোন স্থাপন রাজস্ব বিভাগে নতুন সংযোজন। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অন্যান্য সকল অফিস, দপ্তর, সংস্থা ঢাকা দক্ষিণ এর কিডস ডেনের মতো ভালো উদাহরণ অনুসরণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন নজিবুর রহমান।

কিডস ডেন ঘুরে দেখা যায়, দেয়ালে নয়নাভিরাম ছবি দিয়ে সাজানো। শিশুদের বিশ্রামে রয়েছে বিছানা। রয়েছে অনেক রকম খেলনা। ছবি আঁকতে রয়েছে বোর্ড। রয়েছে ছোট শিশুদের বই। পরিপাটি রুমে দুইজন নারী কর্মী শিশুদের যত্নে নিয়োজিত রয়েছেন।

ভ্যাট দক্ষিণ সূত্র জানায়, এ কিডস জোনে ৮ থেকে ১০ জন শিশু ভর্তি করা যাবে। যাদের বয়স হবে ২ থেকে ৭ বছর। রবি থেকে বৃহস্পতিবার পূর্ণকালীন, সপ্তাহের সীমিত দিনে (বৃহস্পতিবারসহ)সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা খন্ডকালীন এবং অর্ধ-দিবস (সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা বা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) কেন্দ্র খোলা থাকবে। এতে পূর্ণকালীন ২ হাজার, খন্ডকালীন ১০০ ও অর্ধ-দিবস ৫০ টাকা করে বেতন দিতে হবে। শিশু ভর্তি করতে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। বাচ্চাদের খাওয়ানো, পোশাক পরিধান, পরিস্কার, বিশ্রাম, খেলানো ও শেখানো এখানের রুটিন কাজ। এছাড়া বাচ্চাদের টয়লেট শিক্ষণ, কম্পিউটার ব্যবহার, হাত ধৌতকরণসহ সকল যত্ন নেওয়া এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।

অর্থসূচক/রহমত/জেডআর