হাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগ-শিবির-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, টিয়ার সেল, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর

2Dinajpur-11-12-13---দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)তে ছাত্রলীগ-শিবির-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, ক্যান্টিন ও ছাত্রবাসে আগুন দেয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশ ৫০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তারা নুর হোসেন ছাত্রাবাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি বাস, ক্যান্টিন ও ক্যাম্পাসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একই সময়ে তারা ক্যাম্পাসের শতাধিক গাছ কর্তন ও যুবলীগ নেতা হান্নানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে ইট-পাটকেল, লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর মারমুখী হয়ে এগিয়ে আসে শিবির। ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ মিলে শিবিরের উপর হামলা চালায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড চায়না, শার্টগান ৩২ ও ৮ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

এছাড়া গতকাল হরতাল চলাকালে দুপুর ৩টার দিকে মটর সাইকেল যোগে  দূর্বৃত্তরা মুন্সিপাড়া সোনালী ব্যাংকের এটিএম বুথে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। সারা দিন হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে বিএনপি, জামায়াত ও জাগপার নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে ভোর থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রানীগঞ্জ মোড় থেকে দশমাইল মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ও রানীরবন্দর থেকে দেবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তার গাছ ও বৈদ্যুতিক পিলার ফেলে অবরোধ করে। এলাকায় পুলিশ, বিজিবি প্রবেশ করতে পারেনি। নিরাপত্তার অভাবে কোন সংবাদপত্র কর্মীও সেখানে যেতে পারেনি।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে রানীরবন্দর এলাকায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু হান্নান মো. সাদেক খোকনের বাড়িসহ প্রায় ১৫ টি বাড়িতে আগুন দিয়েছে জামায়াত শিবির। আগুন দেয়া বাড়িগুলোর অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের।

এ ব্যাপারে আগুন দেওয়া এক বাড়ির মালিক ফজলুর রহমান ফোনে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক মাত্র। শুধু  এ কারণেই আমার বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, বাড়ি পুড়ানোর খবর আমরা পেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেই থানায় কোন অভিযোগ করেনি। রানীরবন্দর এলাকায় জামায়াত শিবির মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা রাস্তার দু’ধারের গাছ কেটে রাস্তার উপর ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পুলিশ ও বিজিবিসহ সাধারণ মানুষ ভয়ে কেউ বাড়িতে যাওয়ার সাহস পায়নি।

সাকি/