গ্যাস রপ্তানি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি লিথুনিয়ার আহ্বান

0
65
US-lithonia

US-lithoniaনিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে গ্যাস রপ্তানি বৃদ্ধি করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতি আহবান জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র লিথুনিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপের কারণে দেশটিতে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে এই আহ্বান জানায় লিথুনিয়ার সরকার। খবর বিবিসির।

রাশিয়া ইউরোপের জ্বালনির সবচেয়ে বড় উৎস। কিন্তু গত নভেম্বরে ইইউ’র সাথে ইউক্রেন সরকারের বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে পরস্পরের বিপরীত অবস্থানে চলে আসে রাশিয়া এবং ইইউ।তিন মাসের মাথায় ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের পতনের পর পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করে।

পরবর্তীকালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের সাথে একীভূত করার জেরে রাশিয়ার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে উদ্যোগী হয় ইইউ। কিন্তু রাশিয়ার জ্বালানি এবং ভোগ্য-পণ্য খাতের ওপর সদস্য দেশগুলোর নির্ভরতার কারণে আগ বাড়িয়ে পদক্ষেপ নিতে পারছিল না এই আঞ্চলিক সংস্থা। ভোগ্য-পণ্য এবং জ্বালানি যোগানের চিন্তা সদস্যদেশগুলোর ক্ষমতাসীন সরকারের ঘুম হারাম করে দেয়। এমন দোটানা মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করে ইইউ।

অবরোধ আরোপের পর থেকে ইউরোপে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ এক প্রকার বন্ধ হয় আছে। তাই বাধ্য হয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলো বিশ্ববাজার হতে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। লিথুনিয়া জানিয়েছে, এক্ষেত্রে তাদেরকে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য প্রদান করতে হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে মার্কিন গ্যাস রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতি আহবান জানিয়েছে দেশটির সরকার। এক বিবৃতিতে লিথুনিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী জেরোস্লাভ নেভেরোভিক বলেন, আপনাদের দেশের ৭৫ বছর আগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন। মার্কিন জ্বালানিকে বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ দিন, যাতে আমরা তা ব্যবহার করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, লিথুনিয়া রাজনীতির শিকার। যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লিথুনিয়ার সংকট অপ্রত্যাশিত নয়। ইউরোপের ওপর রাশিয়ার প্রভাব হ্রাস করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায়, রাশিয়ার ওপর আরোপিত অবরোধ আপনা-আপনিই খসে পড়বে।