মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জলদস্যুদের চাঁদাবাজী

0
73
vhola

vholaভোলার  সাগর মোহনায় জলদস্যুরা মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থান  থেকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পাঠালে জেলেদের ওপর হামলা করে। এমনকি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় তাদের। পরে মুক্তিপণের টাকা আদায় করে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জেলার উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলের মাছ ঘাটে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানায়, জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসে  দেড় শতাধিক জেলেকে অপহরণ করে অন্তত কোটি টাকার মুক্তিপণ আদায় করেছে জলদস্যুরা।

জানা যায়, উপকূলীয় মহেষখালী, স্লুইজগেইট, চৌমহনী, হুজুরের খাল, হানিফ মাঝির খাল, কাটাখালী মাছঘাট থেকে প্রায় ৯০টি নৌকায় হামলা করে ৯০ জন জেলে অপহরণ করেছে দস্যু রুবেল বাহিনী।

এসব জেলেদের ছাড়িয়ে আনতে ৫০ থেকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে।

চরফ্যাশনের কুকরি-মুকরি ইউনিয়নের চরমনুরা মাছ ঘাটের জেলেরা জানান, নৌকার মালিক ও আড়ৎদারদের মুঠোফোনের নাম্বার দিয়ে মোবাইল ব্যাংকে টাকা পাঠাতে বলা হয়। গত দুই মাসে এ এলাকায় তারা ঘাটের ১০টি নৌকায় হামলা চালিয়েছে।

ঢালচরের মৎস ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, ১ মার্চ থেকে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কোস্টগার্ড ব্যস্ত থাকে জাল আর জাটকা ধরার কাজে। জেলেদের নিরাপত্ত্বায় তারা কাজে আসেনা। পুলিশ অভিযান চালালেও তা আরও বাড়ানো উচিৎ। এই ঘাটের জেলে ইউসুফ মাঝির ভাষ্য, গত এক মাসে তাদের ঘাটের ৩টি নৌকায় ডাকাতি হয়েছে। কয়েকদিন আগে হেলাল নামে এক মাঝিকে দস্যুদের কবল থেকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনেক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং শুরু  হওয়ার পরে অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে।

ভোলার প্রত্যেকটি মাছ ঘাটে জেলে ও মৎস আড়ৎদার দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে। প্রত্যেকটি ঘাটে দস্যুদের এজেন্ট রয়েছে। তারা ক্ষমতার চাদরে ঘুরে বেড়ায়। এসব এজেন্টরাই নৌকা ছাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ভয়ে জেলেরা মুখ খুলতে পাড়ছেনা।

জেলেরা আরও জানায়, ভোলার চর-জহিরুদ্দিন, মনপুরা ঢালচর, হাতিয়া-রামগতির চরে জলদস্যু রুবেল বাহিনী, স্বপন বাহিনী, কামাল বাহিনী, বেলাল বাহিনীর দৌরাত্ম চলছেই।

এ বিষয়ে সাগর মোহনার থানা দক্ষিণ আইচার ওসি জানান, জলদস্যুদের তৎপরতা কিছুটা কমেছে। দুই চার দিনের মধ্যে কোথাও দস্যুদের হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

জেইউ/সাকি