আবারো বেড়েছে মিনিকেট ও বিআর-২৮ -এর দাম

0
115
Rice
চালের বাজার (ফাইল ছবি)

Rice--চালের বাজারে ফের অস্থিরতা। মিনিকেটসহ বেড়েছে বিআর ২৮ ও পারিজা চালের দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে ইরি মৌসুম, আর ইরি মৌসুম ওঠার আগে বাজারে একটা সংকট দেখা দিয়েছে; যেকারণে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তবে আশার কথা হচ্ছে  বৈশাখের চাল বাজারে উঠলে এর দাম কমে যাবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে মিনিকেট ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিআর২৮ ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, পারিজা ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে নাজির শাইল চালসহ অন্যান্য চালের  দাম।

চাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক অর্থসূচককে বলেন, এখন মিনিকেট চালের মৌসুম শেষ হওয়ায় এর দাম বেড়েছে। বৈশাখ মাসে যে চাল ওঠে তা থেকে মিনিকেট চাল তৈরি হয়। ।

বৈশাখ মাসে ইরি ধান উঠলে মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দাম কমে যাবে বলেও জানান তিনি।

এই চাল ব্যবসায়ী আরও বলেন, চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে পরিবহন ও লেবার খরচ অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি বস্তায় ১০ টাকা খরচ হত, এখন সেখানে ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হচ্ছে। এছাড়াও পরিবহনে আগে যেখানে ১০ হাজার টাকায় সেরে ফেলতে পারতাম এখন সেখানে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগে।

তবে এছাড়াও এই চাল ব্যবসায়ী, চালের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে চাতাল মালিকদের সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে মনে করেন। চালের দাম বাড়লে আমাদের ক্রেতাদের সাথে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। আর যে কারণে আমাদের ক্রেতা ছুটে যায়।

আজকের বাজার চিত্র :

কাঁচাবাজার :

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি শসা ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা,  আলু ১৪ থেকে ১৫ টাকা, গাজর  ২০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, উস্তা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, পেঁপে  ১৫ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, ক্যাপসিক্যাম ১৫০ টাকা ও মটরশুঁটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ব্রকলি (সবুজ ফুলকপি) ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ১০০ টাকা ও লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, জালি কুমড়া ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতিহালি কাঁচকলা ৩০ টাকা ও লেবু ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে লালশাক, লাউশাক,কুমড়াশাক, ডাটা  শাকের আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং লেটুস পাতা প্রতিটি ২০ টাকা, পুদিনাপাতা ১০০ গ্রাম ২০ টাকা, ধনেপাতা প্রতি ২৫০ গ্রাম ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

মুদি :

মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৪ থেকে ২৫ টাকা, চায়না বড় রসুন ৭০ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, একদানা রসুন ১০০ টাকা, চায়না আদা ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা, আমদানি আদা ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা, শুকনা মরিচ ১৭০ টাকা, হলুদ ১২০ টাকা, হলুদের গুঁড়া ১৬০ টাকা, মরিচের গুঁড়া ২২০ টাকা, ধনিয়া ৭৫ টাকা, আটা (২ কেজির প্যাকেট) ৭৫ টাকা, ময়দা ( ২ কেজির প্যাকেট) ৮৫ টাকা, দারুচিনি ৩০০ টাকা, এলাচি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জিরা ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, ভেশন ৫০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১০৫ টাকা, ভারতীয় মশুর ডাল ৭০ টাকা, খেসারি ডাল ৪২ টাকা, মুগ ডাল ১২৫ টাকা, ছোলা ৫০টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪০ টাকা, মাসকলাই ১০০ টাকা,  খোলা চিনি ৪৪ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫২ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন খোলা ১১৫ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১১৯ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

চাল :

আজ চালের বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫  টাকা, লতা আটাশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকা, জিরা নাজির ৫২ টাকা, আটাশ ৪৫ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনি গুড়া ১০০ টাকা, পারিজা ৪০ থেকে ৪২ টাকা, বিআর-২৮-৪৪ টাকা,বিআর-২৯-৪৪ টাকা, হাসকি ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিম :

আজকে বাজারে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিম ২৭ থেকে ২৮ টাকা, হাঁসের ডিম ৩২ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছ :

আজকের মাছ বাজারে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের বেশি প্রতিহালি ইলিশ ২ হাজার ৪০০ টাকা। জাটকা ইলিশ ৩৫০ টাকা, কাতল মাছ ৩৫০ টাকা, রুই মাছ ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, চায়না পুঁটি ১৩০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চিংড়ি (বড়) ১ হাজার ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০ টাকা, শিং মাছ ৮০০ টাকা, বজরি টেংরা ৩৫০ টাকা, নলা মাছ ২৩০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ টাকা, কার্ফু মাছ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুঁটকি মাছ :

শুঁটকি মাছ প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি শুঁটকি মানভেদে ৩০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, টাকি ৬০ টাকা, কাচকি ৬০ টাকা, লইট্যা শুঁটকি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাইম মাছের শুঁটকি ৮০ টাকা, চাপিলা শুটকি ৬০ টাকা, পুঁটি মাছের শুঁটকি ৬০ টাকা, নলা মাছের শুঁটকি ৬০ টাকা, চান্দা মাছের শুঁটকি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি ইলিশ মাছের শুঁটকি ৭০০ টাকা ও কাইলা শুঁটকি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস :

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ২৮০ টাকা, খাসির মাংস ৫০০ টাকা   দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ থেকে ৪০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা টাকা, লেয়ার মুরগি ১৬০ টাকা, হাঁস ৩০০ টাকা, ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৪৫০ টাকা এবং কবুতরের বাচ্চা ২০০ টাকা জোড়া হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

ফল :

আজ ফলের বাজারে আপেল ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা,  মানভেদে কমলা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ডজন, বেদানা ২২০ টাকা, মালটা ১২০ টাকা, কালো আঙ্গুর ২২০ টাকা, সাদা আঙ্গুর ১৬০ টাকা,  আম ৩০০ টাকা, স্ট্রবেরি ২০০ টাকা, পেয়ারা ১৫০ টাকা, নারকেল বড়ই ১০০ টাকা, আপেল বড়ই ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বাউকুল ৬০  টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক.কম/এসএস/